খোলা আকাশের নিচে, তীব্র রোদ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে অবস্থান করছে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার হওয়া ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ ছয়জন। টানা প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। শিশুসহ পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের দেখতে প্রতিদিনই সীমান্ত এলাকায় ভিড় করছেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু। নিষ্পাপ শিশুকে আটকে রাখা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। পুশইনের শিকার ছয়জনকে রাখা হয়েছে ১০৬০ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে এক ফাঁকা স্থানে। এক পাশে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া ও ঝালুর চর বিএসএফ ক্যাম্প, অন্য পাশে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি খাল। আশপাশে নেই কোনো বসতবাড়ি, দোকানপাট, নেই কোনো সহায়তার সুযোগ। তাদের অবস্থান ঘিরে একদিকে বিএসএফ এবং অন্যদিকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। সেখানে নেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল কিংবা স্যানিটেশনের ব্যবস্থা। মাঝে-মধ্যে বিএসএফ খাবার দিলেও অধিকাংশ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীর দেয়া বিস্কুট ও সামান্য খাদ্যসামগ্রীই তাদের ভরসা। জামালপুর ৩৫-বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিজিবি’র পক্ষ থেকে আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএসএফ’র পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। জানা যায়, রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে মাথার ওপর সামান্য একটি প্লাস্টিক টাঙিয়ে তার নিচে আশ্রয় নিয়েছেন এক দম্পতি। তাদের কোলে রয়েছে মাত্র ৬ মাস বয়সী শিশুসহ থেকে তিন বছর বয়সী আরেক সন্তান। একই স্থানে অবস্থান করছেন আরও দুই যুবক। গয়টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, শিশুটি তো কোনো অপরাধ করেনি। তাহলে কেন তাকে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে কষ্ট পেতে হবে। আমরা দ্রুত এ ঘটনার সমাধান চাই।
জানা গেছে, গত রোববার সকালে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দিলে ছয় মাসের এক শিশুসহ দুই শিশু, এক নারী ও তিন পুরুষ শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। একই দিনে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বাধার মুখে তারা ভারতের ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে, শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। ঘটনার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গয়টাপাড়া বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার মাসুদ রানা বলেন, যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র টহল জোরদার করা হয়েছে।
