ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ ইয়টের সামনে রুশ যুদ্ধজাহাজের সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার ঘটনাকে বেপরোয়া ও গভীর উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল গ্রেগোরোভিচ এবং বৃটেনের পতাকাবাহী ইয়ট ব্রাইট ফিউচার যখন ইংলিশ চ্যানেলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় কাছাকাছি অবস্থানে ছিল তখন এই ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্টারমার বলেন, এটি হওয়া উচিত ছিল না। এটি বেপরোয়া আচরণ, এবং ইয়টে থাকা দম্পতি নিশ্চয়ই ভয় পেয়েছিলেন।
ইয়টে থাকা ব্রিটিশ নাবিক জেন কেলভি জানান, তাদের নৌযান এবং রুশ যুদ্ধজাহাজ কোনোভাবেই সংঘর্ষের পথে ছিল না। তিনি বিবিসি নিউজনাইটকে বলেন, রুশ জাহাজটি প্রথমে হর্নে পাঁচবার সংকেত দেয়, যার অর্থ আপনারা কি আমাদের দেখতে পেয়েছেন?
কেলভির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সঙ্গে সঙ্গে দুই ডিগ্রি বাম দিকে মোড় নেন, যাতে বোঝা যায় যে তারা সংকেতটি বুঝেছেন। কিন্তু প্রায় এক মিনিট পর রুশ জাহাজটি আবার হর্ন বাজায় এবং এরপর চার থেকে পাঁচ রাউন্ড ছোট অস্ত্রের গুলি ছোড়ে।
তবে তিনি বলেন, গুলিগুলো সরাসরি ইয়টকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়নি, বরং সতর্কতামূলক ছিল। তিনি এটিকে “সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়” বলে বর্ণনা করেন।
অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইয়টটি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে আসছিল এবং রেডিও বার্তার কোনো জবাব দিচ্ছিল না।
তাদের দাবি, প্রথমে সংকেত ফ্লেয়ার ছোড়া হয় এবং পরে ইয়টটি মাত্র ১৫০ মিটার দূরে চলে এলে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধজাহাজের ক্রুরা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম মেনেই কাজ করেছে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে।
