বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও পার্টনারদের ঘনিষ্ঠ মহল এখন আর আগের মতো নেই। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে দল যখন কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে, তখন এই গ্রুপটি একসঙ্গে মাঠের গ্যালারিতে উপস্থিত থাকত। কিন্তু এখন সেই ঘনিষ্ঠ জোটে মাত্র একজন সদস্য অবশিষ্ট রয়েছেন। একমাত্র টিকে থাকা সদস্য হলেন মেগান পিকফোর্ড। তিনি গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের স্ত্রী।
এবারও আটলান্টিক পেরিয়ে বিশ্বকাপে দলের প্রধান গোলরক্ষকের পাশে থাকার কথা তার। মেগান অতীতে হ্যারি ম্যাগুয়েরের স্ত্রী ফার্ন ম্যাগুয়েরের বিয়েতে ব্রাইডসমেড ছিলেন। তবে এবার ফার্ন আর বিশ্বকাপে উপস্থিত থাকবেন না। কারণ কোচ টমাস টুখেল তাকে চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে রাখেননি। ফার্ন এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তোমার প্রমাণ করার আর কিছুই বাকি ছিল না। তুমি কতটা সম্মানিত, সেটা আলাদা করে বলার দরকার নেই। শুধু দুঃখের বিষয়, তুমি একজনের ব্যক্তিগত মতের কারণে বাদ পড়লে।
হ্যারি ম্যাগুয়ের ছাড়াও তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ লুক শ, ইংল্যান্ড ফুটবলারও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি। তিনি টিনো লিভ্রামেন্টো, নিকো ও’রেইলি, জেড স্পেন্স এবং ড্যান বার্নের মতো খেলোয়াড়দের থেকে পিছিয়ে পড়েছেন। এর ফলে লুক শ’র দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী আনউস্কা সান্তোসও এবার টুর্নামেন্টে থাকছেন না। ২০১৭ সাল থেকে তারা একসঙ্গে আছেন এবং তাদের চারটি সন্তান রয়েছে। ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপসহ পরবর্তী ইউরো টুর্নামেন্টগুলোতে তিনি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে কিয়ারান ট্রিপিয়ার ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন এবং ২০২৫ সালের জুনে স্ত্রী শার্লটের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে।
তারা এক বছরেরও বেশি সময় আলাদা ছিলেন এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের পথে যান। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। ট্রিপিয়ারকে ২০২৪ সালে নিউক্যাসলের কসাই জো’স নামে একটি বারে কল সেন্টার কর্মী ফ্র্যাঙ্কি কারমাইকেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া শহরে এক রহস্যময় স্বর্ণকেশী নারীর সঙ্গেও তাকে দেখা গেছে বলে স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও পাঠিয়েছিলেন। পরে আইবিজায় তাকে রিয়েলিটি শো তারকা ক্লো ফেরি-এর সঙ্গেও দেখা যায়।
আনি কিলনার-ও এবার বিশ্বকাপে উপস্থিত থাকছেন না। কারণ তার সঙ্গী কাইল ওয়াকার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। মার্চ মাসে তিনি জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ান, নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেয়ার কথা বলে। এর ফলে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক থেকে মাত্র চার ম্যাচ দূরে থেকে বিদায় নেন। স্কোয়াড চূড়ান্ত করার সময় কোচ টুখেল আরও কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কেও বাদ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জ্যাক গ্রিলিশ। তিনি জানুয়ারিতে এভারটনে ধারে খেলার সময় চোট পান। ফলে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী সাশা অ্যাটউড এবার গ্যালারিতে থাকবেন না। তিনি অতীতে ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে গিয়ে ইউনাইটেড বান্ধবী ফার্নও আনউস্কার সঙ্গে সময় কাটাতেন।
আরও একজন আলোচিত প্রেমিকা অলিভিয়া হোল্ডারও এবার বিশ্বকাপে থাকছেন না।
কারণ চেলসির তরুণ তারকা কোল পালমার কোচের চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি। সবশেষে মরগান গিবস-হোয়াইট-এর দলে না থাকা অনেকের জন্যই বিস্ময়কর। কারণ তিনি প্রিমিয়ার লিগে ১৫ গোল করেন। ফলে তার সঙ্গিনী ব্রিটনি ডি ভিলিয়ার্সও এবার বিশ্বকাপের গ্যালারিতে থাকবেন না। সব মিলিয়ে একসময় আলোচিত ও ঘনিষ্ঠ ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও প্রেমিকাদের সেই অভ্যন্তরীণ জোট এখন প্রায় বিলুপ্ত। শুধু মেগান পিকফোর্ডই টিকে আছেন এই পরিবর্তিত বাস্তবতায়।
