ভারতের মন্ত্রী থেকে বিজেপি নেতা সকলেরই প্রবল মাথাব্যথা অনুপ্রবেশকারী তথা অভিবাসীদের নিয়ে। আর নির্বাচনের মুখোমুখি হয়ে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আর তাই নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলো সফরে গিয়ে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ আসামে এসে প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকলেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ঝাঁঝালো ভাষণ দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন না। আসাম সফরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, 'বিজেপি আসমে ফের ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে দেশ থেকে তাড়ানো হবে। তবে এবার তিনি লম্বা সময় সীমা ধার্য করে বলেছেন, আসাম এবং গোটা দেশ অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করা হবে। এর জন্য দরকার ইচ্ছাশক্তি, সাহস এবং দৃঢ়তা। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সবগুলোই রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, রাজ্য সরকারের সহযোগিতা ছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো অসম্ভব।
আসামে সরকারি এক অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেছেন, দেশ থেকে যদি মাওবাদ নির্মূল করা যায়, তবে অনুপ্রবেশকারীদেরও নির্মূল করা সম্ভব। অনুপ্রবেশকারীদের আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে। শুধুমাত্র জবরদখল করে রাখা জমি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদ করে লাভ নেই। শুধুমাত্র এক জায়গা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদ করলে তারা অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে শুরু করবে। তাদের দেশ থেকেই তাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অনেক বাংলাদেশিকে পুশব্যাকও করা হয়েছে। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে নির্বাচন লড়তে চাইছে বিজেপি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে নির্বাচনী ইশতেহারে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত অসামের প্রতিশ্রুতি দেয়ার জন্য কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন অমিত শাহ। অনুপ্রবেশের 'সুযোগ' দেয়ার জন্য কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি আসামের উন্নয়নের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ ছিল।
