কোরিয়াগামী কর্মীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা, মূলহোতা আটক

ফন্ট সাইজ:

দক্ষিণ কোরিয়াগামী এক কর্মীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে একটি চক্রের মূলহোতাকে আটক করেছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও রাজশাহী জেলা প্রশাসন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া আমচত্বর মোড় এলাকায় যৌথ অভিযানে আহসান হাবীব নামে ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি রাজশাহীর পবা থানার ঘোড়াহাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মেরাজ আলী সরকারি ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী হিসেবে যাওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে আবেদন করেন। ভাষা পরীক্ষা, স্কিল টেস্ট ও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি রোস্টারভুক্ত হন। এই তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রের সদস্যরা মেরাজ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

গত ১৪ জুন আহসান হাবীব ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে কোরিয়ার একটি কোম্পানির ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে দাবি করেন, ১৬ লাখ টাকা না দিলে তার ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে শতভাগ ভিসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মেরাজ আলী গত ১৫ জুন ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত বোয়েসেল কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই এবং এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। একই সঙ্গে তাকে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেয়া হয়।

এরপর প্রতারকদের ধরতে বোয়েসেল একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর নওদাপাড়া আমচত্বর মোড়ের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে আহসান হাবীব অগ্রিম টাকা নিতে এলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানে ছদ্মবেশে অংশ নেন বোয়েসেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) ও সিনিয়র সহকারী সচিব নু-এমং মারমা মং এবং ব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ-২) রিফাত তাহনীম। তাদের সঙ্গে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান হাবীব কোরিয়াগামী কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে বোয়েসেল। পরে তাকে শাহমখদুম থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেরাজ আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়েরের জন্য এজাহার জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়ম অনুসারে বোয়েসেলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়। এখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার বা বাতিল করার সুযোগ নেই। তিনি এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক কোনো ঘটনার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বোয়েসেলকে জানানোর আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন