প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির বিমানবন্দরে আটকানোর ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ঢাকা। গতকাল দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসিদাশ বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই অসন্তোষ জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র মানবজমিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ওশান রিম এসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুইদিনের বৈঠকে অংশ নিতে গত রোববার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. জাহেদ উর রহমান। সেখান থেকে বের হওয়ার মুখে তাকে আটকে দেয়া হয়।
দায়িত্বশীল একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ডা. জাহেদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। তিনি সাধারণ পাসপোর্টে ভ্রমণ করেছিলেন। যদিও এতদিনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার কূটনৈতিক পাসপোর্ট হয়ে যাওয়ার কথা। ঢাকায় প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ডা. জাহেদকে বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমানবন্দরে রাখা হয়। এ সময় উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান মেলেনি। পরে ডা. জাহেদকে অনুমতি দেয়া হলেও তিনি দিল্লিতে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি শ্রীলঙ্কা হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।
এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. খলিলুর রহমান। গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. খলিল বলেন, এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও সাংবাদিকদের একই কথা বলেন। তার ভাষ্য, দিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে যা হয়েছে তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলার পর ঢাকাস্থ ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলবের বিষয়টি জানা যায়। এদিকে ভারতের তরফে এখনো এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। সূত্রের তথ্য মতে, ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে চিঠি দিয়ে আগে থেকেই ডা. জাহেদের ভ্রমণের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। এর পরেও তথ্য উপদেষ্টা কেন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে হেনস্তার শিকার হলেন তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
সংসদে বিরোধী দলের বিবৃতি দাবি: ডা. জাহেদকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকানোর ঘটনায় গতকাল জাতীয় সংসদে সরকারের তরফে বিবৃতি দেয়ার দাবি তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই এমপি বলেন, গতকাল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে ভারতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। যতটুকু জেনেছি, যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি দেয়ার পরও তাকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। পরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলেও জাহেদ উর রহমান শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এ বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক ব্যর্থতা আছে কিনা- সে প্রশ্ন তুলে ৩০০ বিধিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বিবৃতির দাবি করেন সাইফুল আলম খান। তার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। নোটিশ দিলে বিবেচনা করা হবে।
