ইসলামী ব্যাংককে আরও আড়াই হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে টাকা উত্তোলনের চাপ কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন। এদিকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। দায়িত্ব নিয়ে জহির হোসেন বলেন, এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। আমানতকারীদের নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।
তিনি জানান, যোগ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ ব্রিফিংয়ের সময় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী ব্যাংকে পর্ষদ গঠন বিষয়ে মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, পাঁচ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, আমরা এখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ লোক দিতে চাই, যারা এই ব্যাংকটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করি, খুব শিগগির আপনারা একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড পাবেন। ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসাবে আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে ব্যাংকটি।
তিনি বলেন, আগের দিনও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি। সেই অর্থের পুরোটা এখনো ব্যবহার করতে হয়নি। আশা করি, যারা আতঙ্কে টাকা তুলে নিয়েছেন, তারা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন। সাবেক এমডি ওমর ফারুককে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান যে, তিনি ইতিমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদ তা গ্রহণ করেছে। ফলে তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই।
এদিকে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের সময় যেসব শেয়ার আগের মালিকদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছিল, তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এমন উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলনকারী গ্রাহকেরা। এই দাবিসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা, মালিকানা ও গ্রাহকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেবে সংগঠনটি। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নেতারা এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন।
