বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক

বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক

ফন্ট সাইজ:

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- কতো দ্রুত তাকে দেশে আনা সম্ভব? সূত্রগুলো বলছে, প্রচলিত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় গেলে সময় লাগতে পারে কয়েক মাস। কিন্তু সরকার চাইলে কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা বাড়িয়ে প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করতে পারে।

গতকাল দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কাগজপত্র ও আদালতের আদেশসহ সংশ্লিষ্ট নথি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

দুদক সূত্রমতে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অগ্রগতি, তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের আদেশ এবং গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত তথ্য একত্র করা হচ্ছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করা হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইউএই’র মধ্যে বিদ্যমান আইনি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হবে। আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পর ইউএই কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। এরপরই প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নথিপত্র পাঠানো। কারণ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় সামান্য ত্রুটিও বড় ধরনের বিলম্বের কারণ হতে পারে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ, মামলার এজাহার, তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি যত দ্রুত ইউএই কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছাবে, তত দ্রুত বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে জটিল অংশ হলো আদালত পর্যায়ের যাচাই। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে না যান, তাহলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত শেষ হতে পারে। কিন্তু তিনি যদি আদালতে আপত্তি জানান, তাহলে বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। দুদকের সদ্য বিদায় পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান জানান, দুবাই এর সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। যে কারণে তাকে দ্রুতই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এদিকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব মামলার তদন্তে নতুন নতুন তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে বলছে, প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রত্যর্পণ কোনো একদিনের বিষয় নয়। ইউএই’র আইন, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং দুই দেশের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তারপরও সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে বেনজীর আহমেদকে তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন