কর্মসংস্থানের আশায় রাশিয়ায় যাওয়া বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন এমন একটি অডিও ক্লিপ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে নিজের পরিচয় দেয়া ব্যক্তির নাম আরমান আলী। তার বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার গোদা শিমলা এলাকায়। তিনি বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার বাবা রফিকুল ইসলাম। রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে দেড় মাস আগে রাশিয়ায় যায়। সেখানে তার ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার কথা ছিল। রাশিয়ায় যাওয়ার কিছুদিন পরই তাকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে থাকা চারজন বাংলাদেশিও আহত হয়েছেন। সেই অডিওতে শোনা যায়, জামালপুরের আরমান আলী দাবি করেছেন, তার সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া চারজন ছাড়া বাকি সবাই যুদ্ধে মারা গেছেন।
বর্তমানে জীবিত থাকা ওই চারজনকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এ সময় তিনি যুদ্ধে নিহত কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন। তাদের মধ্যে জামালপুরের আরিফ হোসেন ও মফিজ মিয়া নামে দু’জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। এদিকে অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরচড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন (২৬) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে মফিজ মিয়ার (২৪) পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
মফিজ মিয়ার পরিবার জানায়, এ বছরের ৭ই মে এক দালালের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা খরচ করে তিনি রাশিয়ায় যান। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করার কথা থাকলেও তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২৯শে মে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একইদিনে রাশিয়ায় যাওয়া আরিফ হোসেনকেও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ২৯শে মে সর্বশেষ পরিবারের সঙ্গে কথা হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গেও আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
