দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ২৭শে জুলাই ঢাকা-নারিতা রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রুটটির বাণিজ্যিক সাফল্য ও বহরে নতুন বিমান যুক্ত হওয়ার পর ভবিষ্যতে এ রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। গতকাল তথ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, জাপানে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বিমান প্রাথমিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া বজায় রেখে তাদের বোয়িং ৭৮৭-৮০০ ড্রিমলাইনার বিমান ব্যবহার করে এই রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বাণিজ্যিক সাফল্য এবং জাতীয় বিমান সংস্থার বহরে নতুন বিমান যুক্ত হওয়ার উপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বিমানের ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য অনুমোদিত বিতরণ চ্যানেলের মাধ্যমে ২০শে জুন থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বিমান মূলত ৩০শে জুনের মধ্যে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে জাপান সিভিল এভিয়েশন ব্যুরো (জেসিএবি) একটি ব্যাপক নিরাপত্তা নিরীক্ষার অনুরোধ জানায়, যার নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন। আমরা সংশ্লিষ্ট সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২৭শে জুলাই ঢাকা-নারিতা-ঢাকা পরিষেবাটি পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করছি। ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক গভীর করা এবং সংযোগ উন্নত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিমানকে পরিষেবাটি পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে সাধারণত সময় লাগে, কারণ বিমান সংস্থাগুলো বাজারে নিজেদের অবস্থান, যাত্রীদের আস্থা এবং চাহিদা তৈরি করে। কার্যকর বিপণন কৌশল, ক্রমবর্ধমান যাত্রী সংখ্যা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই রুটের সম্ভাবনা আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গন্তব্য হিসেবে জাপানের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আদান-প্রদান এই রুটের জন্য শক্তিশালী দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুট পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জনগণের সংযোগ আরও জোরদার হবে এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি রুট পুনরায় চালু করা নয়, বরং বাংলাদেশকে আরও সংযুক্ত করা, নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিষেবাটি পুনরায় চালু করতে বিলম্বের জন্য সরকার দুঃখিত, তবে এর কারণ হিসেবে জাপানের নিরাপত্তা নিরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত পদ্ধতিগত প্রয়োজনীয়তাকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রুটটি এমন সময়ে স্থগিত করা হয়েছিল যখন এটি উৎসাহব্যঞ্জক বাণিজ্যিক ফলাফল দেখাতে শুরু করেছিল। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি লাভজনক ও টেকসই হয়ে উঠবে। মিল্লাত বলেন, বর্তমানে জাপানে ৪০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক ও শিক্ষার্থী বসবাস করছেন; যা এই রুটের জন্য একটি শক্তিশালী যাত্রী ভিত্তি তৈরি করেছে। রুটটি পুনরায় চালুর ঘোষণা জাপানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমান এই রুটটি পুনরায় চালু করেছিল। বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা, বিমানের ঘাটতি এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০২৫ সালের ১লা জুলাই থেকে রুটটি স্থগিত করা হয়েছিল। এক বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র সরাসরি বিমান সংযোগটি পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান। কর্মকর্তারা মনে করেন, এর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকে সহায়তা করবে।
