কারাগারে মায়ের সঙ্গে কত শিশু, দুই মাসের মধ্যে জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

দেশের বিভিন্ন কারাগারে মায়ের সঙ্গে কতজন শিশু অবস্থান করছে, তাদের বয়স, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দুই মাসের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশুদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও জানাতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের প্রয়োজনীয় কল্যাণ, নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনযাপনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

রিটকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার পক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন। রুলের জবাব দিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব এবং কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন্স) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত আবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন কারাগারে দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন নারীদের সঙ্গে বহু শিশু বসবাস করছে। এসব শিশু কোনো অপরাধে অভিযুক্ত নয়, তবুও মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক বিকাশ ও স্বাভাবিক শৈশব ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

রিটে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শীর্ষক একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ জেল কোডের ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী নারী হাজতি ও কয়েদিরা চার বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানকে সঙ্গে রাখতে পারেন। বিশেষ অনুমতিতে এ সময়সীমা ছয় বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। শিশুর বয়স ছয় বছর অতিক্রম করলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর স্বজন না থাকলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি শিশুনিবাসে পাঠানো হয়।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে বসবাস করছে ২৯৯ শিশু। এর মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু ও ১৪৬ জন ছেলেশিশু। এসব শিশুর অধিকাংশ মায়ের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। কেউ সাজাপ্রাপ্ত, আবার কেউ বিচারাধীন।

তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের কারাগারগুলোতে রয়েছে ১০০ শিশু, চট্টগ্রামে ৯০, রাজশাহীতে ২৫, সিলেটে ১৯, রংপুরে ২৫, খুলনায় ২০, বরিশালে ৪ এবং ময়মনসিংহে ১৩ শিশু। সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। গত ৪ মে পর্যন্ত সেখানে ছিল ৫১ শিশু। তাদের মধ্যে ২৪ জন ছেলে ও ২৭ জন মেয়ে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অধিকাংশ শিশুকেই কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে থাকতে হয়, যেখানে হত্যা ও মাদক মামলার আসামিসহ অন্যান্য বন্দিরাও অবস্থান করেন। ফলে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কারাগারে থাকা শিশুদের জন্য পৃথক ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আদালতের এ নির্দেশকে তারা শিশু অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন