জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের একক নিয়ন্ত্রণের ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত হয়নি, হবে না। এজন্য কেবল তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার নয় বরং পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার করতে হবে। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর মিডিয়া ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি’র উদ্যোগে আয়োজিত তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার একটি জনমুখী ও সংস্কারমূলক রোডম্যাপ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্ষীয়ান সাংবাদিক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে সেন্টার ফর মিডিয়া ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসির পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, সরকার সংস্কার শব্দটি এখন আর উচ্চারণই করে না। অথচ তাদের ৩১ দফায় ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের কথা। কিন্তু এখন তারা সরকার গঠনের পর সংস্কারের নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে উঠে। কারণ রাষ্ট্র সংস্কার হলে তারা দলীয়করণ করতে পারবে না। দলীয়করণ করতে না পারলে দুর্নীতি, লুটপাট, দখলবাজি, চাঁদাবাজির সুযোগ পাবে না। এজন্যই সরকার সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কারসহ পুরো রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার না হলে আজকে যেই বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে আগামীতে তারাই সংস্কারের জন্য আক্ষেপ করবে।
সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক আবুল আসাদ বলেন, গণমাধ্যমের ওপর মানুষ আজ সন্তুষ্ট নয়। কারণ গণমাধ্যম জনগণের কন্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেনি। আমাদের দেশে কোনো সময়, কোনো কালেই গণমাধ্যম স্বাধীন ভূমিকা রাখতে পারেনি। তিনি নিজের সাংবাদিকতার ৫৪ বছরের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ৫৪ বছরের সাংবাদিকতায় তিনি ৫৪ মাসও নিজের পুরো বেতন সম্মানি পাননি। সাংবাদিকেরা মালিক কর্তৃক শোষিত হওয়ার কারণে অনেক সময় অনেক সাংবাদিক অপেশাদারিত্বের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়। তাই দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার অনিবার্য।
সেন্টার ফর মিডিয়া ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসির পরিচালক জাহিদুর রহমানের পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. খাদিমুল ইসলাম। এতে অন্যান্যের মধ্যে একুশে টিভির হেড অব নিউজ হারুনুর রশিদ, গ্রীন ওয়াচ বিডি’র সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, দৈনিক মানবকন্ঠের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, বাংলাদেশ বেতারের সাবেক ডিজি মো. সালাহউদ্দিন, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিক রুম্মান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
