ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সুখবর দিলেন ভারপ্রাপ্ত এমডি

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সুখবর দিলেন ভারপ্রাপ্ত এমডি

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ফলে সোমবার থেকে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে টাকা তুলতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসেন। রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুইজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক অংশ নেন। ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গভর্নরকে অবহিত করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও চেক নগদায়নে কোন অসুবিধা হবে না। আমানত জমা ও উত্তালনের হার প্রায় কাছাকাছি। গ্রাহকরা প্রতিদিন ১২শ কোটি টাকার মতো জমা ও সমপরিমাণ আমানত নগদায়ন করছেন। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের কোন ধরনের ভোগান্তি যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। তবে আরটিজিএস ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে কিছু অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। অনলাইন লেনদেন নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অভ্যন্তরীণ লেনদেনে কোনো সমস্যা নেই। সেলফিন এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তহবিল স্থানান্তর স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে আন্তঃব্যাংক স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের আলোচনা মূলত ব্যাংকের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম, নগদ অর্থের প্রবাহ, লেনদেন পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের অর্থের চাহিদা নিয়ে হয়েছে। ব্যবসার বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, আমরা কোন খাতে অর্থ পেয়েছি, কোথায় ব্যয় করেছি, কী পরিমাণ অর্থ উত্তোলন হয়েছে এবং আগামী দিনে কত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ৯ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা। টাকা তোলার হিড়িকে শেষ দু দিনে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়। এমন অবস্থায় ১০ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তার আবেদন করে ব্যাংকটি। পর্যালোচনা শেষ রোববার ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধার হিসেবে তারল্য সহায়তা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিরাপদ রয়েছে ও ভয়ের কোন কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেন।

চেক ক্লিয়ারিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চেক নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং এ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের কিছু শাখায় নগদ অর্থ উত্তোলন ও আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন