ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক ‘রিকভারি রোডম্যাপ’

সিএসইআর’র বাজেট প্রতিক্রিয়া

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক ‘রিকভারি রোডম্যাপ’

ফন্ট সাইজ:

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী মহলে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের (সিএসইআর) চেয়ারম্যান ও ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি কেবল একটি গতানুগতিক আয়-ব্যয়ের খতিয়ান নয়, বরং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার একটি প্রাথমিক ‘রিকভারি রোডম্যাপ’। আমরা ইতিবাচকভাবে লক্ষ্য করছি যে, সিএসইআর এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী ফোরামের কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলোকে সরকার নীতিগতভাবে বড় আকারে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে একটি থিংক ট্যাংক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু প্রশংসা করা নয় বরং বাস্তবায়নের ত্রুটিগুলোও ধরিয়ে দেয়া।

উল্লেখ্য, গত ১১ই জুন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত প্রথম জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন।

বাজেট ঘোষণার বেশ আগেই, গত ১৯শে এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আমরা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ-এর পক্ষ থেকে একটি বিশদ থিংক ট্যাংক পলিসি পেপার প্রকাশ করেছিলাম, যেখানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব সংস্কার ও বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সাথে 'ট্যাক্স প্রপোজাল', 'ভ্যাট ফোরাম', 'কাস্টমস' ও 'রপ্তানি' সংক্রান্ত বিভিন্ন অংশীজনদের প্রস্তাবনাও আমরা সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলে তুলে ধরেছিলাম। আমাদের উত্থাপিত প্রস্তাবনা ও অংশীজনদের দাবির কতটা প্রতিফলন এই বাজেটে ঘটল, আর কোন কোন জায়গায় বাস্তবতার কারণে সরকার ভিন্ন পথ অবলম্বন করলো, তার একটি অত্যন্ত বিশদ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধরছি।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রাকে সাধুবাদ জানালেও, মাঠ পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা বা হয়রানি যাতে না বাড়ে, সেদিকে নজর দেয়ার তাগিদ দেন। করের আওতা না বাড়িয়ে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন। শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। জ্বালানি আমদানির জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং ডলার সংকটের টেকসই সমাধান না হলে তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের মতো বড় রপ্তানি খাতগুলো বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সংকটের প্রেক্ষাপটে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। তবে বাজেট দলিলের লক্ষ্যমাত্রা এবং মাঠপর্যায়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সাথে রাজস্ব নীতির সঠিক সমন্বয় না হলে মূল্যস্ফীতি কমানো কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রাকে তিনি 'অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী' বলে অভিহিত করেন।
সিএসইআরের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সাকিফ শামীম আরও জানান, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সামষ্টিক অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, লাগামহীন খেলাপি ঋণ (যা গত অর্থবছরের শেষে মোট ঋণের প্রায় ৩৫.৭৩ শতাংশে বা ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে) এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতার এক চরম ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে ঘোষিত হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার নতুন জাতীয় বাজেট। দেশের একটি দায়িত্বশীল থিংক ট্যাংক হিসেবে আমরা বাজেট প্রণয়নের আগেই সতর্ক করেছিলাম যে, রাজস্ব নীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে নিবিড় সমন্বয় এবং কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় না রাখলে মূল্যস্ফীতির অনিয়ন্ত্রিত চাপ সাধারণ মানুষকে আরো চাপে ফেলে দিবে এবং স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটবে।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রাক্কলন ও বাজেটের আকারের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের পলিসি পেপারে প্রবৃদ্ধির অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং মুদ্রানীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব সংকোচনের মাধ্যমে ঘাটতি বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলাম। সরকার অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে আমাদের সুরেই সুর মিলিয়ে এবারের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অতীতের মতো কাল্পনিক ৭-৮% না ধরে বাস্তবসম্মত ভাবে ৬.৫% এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫% এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো, বাজেট ঘাটতি আমাদের প্রস্তাবনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জিডিপির মাত্র ৩.৬% এ (২ লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকা) সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। একই সাথে ব্যাংক খাতের ওপর থেকে চাপ কমাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ সচল রাখতে আমাদের আশঙ্কারই একটি সরাসরি ইতিবাচক সমাধান। সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য নিয়েছে, তার জন্য এই সামষ্টিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা জরুরি ছিল।

আয়কর ও কর্পোরেট কর সংস্কারের ক্ষেত্রে অংশীজনদের প্রস্তাবনায় এবং আমাদের গবেষণায় আমরা বলে আসছি, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা ভেঙে ১০টির মতো করপোরেট কর হার তৈরি করা হয়েছে, যা পরিপালন করা অত্যন্ত জটিল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিরোধী। একই সাথে আয়ের সাথে সম্পর্কহীন স্থূল প্রাপ্তির ওপর লাভ-লোকসান নির্বিশেষে ন্যূনতম কর আরোপের বৈষম্যমূলক ধারা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছিলাম আমরা, কারণ এটি ব্যবসার মূলধন সংকুচিত করে এবং বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নতুন বাজেটে সরকার কর পরিধি সম্প্রসারণে জোর দিলেও করপোরেট করের হারের বহুস্তরীয় কাঠামো এখনো সম্পূর্ণ ভাঙতে পারেনি, বিদ্যমান কর হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, তবে বাজেটে '৩আর' কৌশল ঘোষণা করে আমাদের দাবির পক্ষে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, করনীতি ও কর বাস্তবায়নকে আলাদা করা হবে এবং কর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী করনীতি প্রণয়ন করা হবে। ন্যূনতম কর পুরোপুরি বাতিল না হলেও, করদাতাদের করযোগ্য আয় কমানোর জন্য অনুমোদনের খরচ বাড়ানো এবং উৎসে কর কর্তন না করার কারণে খরচ অগ্রাহ্য করার বিদ্যমান বিধান বিলোপের মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা আমাদের বিনিয়োগবান্ধব দর্শনের সাথে সংগতিপূর্ণ। এছাড়া ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পৌনে ৪ লাখ টাকা করা এবং আগামী ৫ বছরের জন্য একটি প্রগতিশীল প্রডিউসিবল কর কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে, যা করদাতাদের দীর্ঘমেয়াদী কর পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।

ভ্যাট ও রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে বিশদ সংস্কার প্রস্তাবনায় জটিলতা কমাতে এবং ব্যবসা সহজ করতে 'অর্থনৈতিক কার্যক্রম'-এর মতো অস্পষ্ট সংজ্ঞা বিলোপের দাবি জানিয়েছিল, কারণ ভ্যাট মূলত সরবরাহের ওপর প্রযোজ্য হওয়া উচিত। একই সাথে ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে আমদানি স্তরে ৫% আগাম কর পুরোপুরি বিলুপ্ত করা, ক্ষয়ক্ষতি ও বীমা সংক্রান্ত সমন্বয় ঘটনাগুলোর সরলীকরণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ঠিকাদারদের প্রতি মাসের রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতাজনিত ঢালাও ২,০০০ টাকার জরিমানা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানোর জোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
কাস্টমস ও শুল্ক মূল্যায়ন নীতির ক্ষেত্রে সিএসইআর-এর পক্ষ থেকে শুল্ক কর্মকর্তাদের ডাটাবেজ বা রেফারেন্স মূল্যের ভিত্তিতে জোরপূর্বক উচ্চ শুল্কায়নের ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল। শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালা-২০০০ যথাযথভাবে অনুসরণ করে ট্রানজেকশন ভ্যালু বা বিনিময় মূল্যকে প্রাধান্য দেয়ার এবং কাস্টমসকে শুধু রাজস্ব সংগ্রহের হাতিয়ার না বানিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে বাণিজ্য সহজীকরণে রূপান্তরের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বাজেটে এই দীর্ঘমেয়াদী দাবির একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আমরা দেখতে পাচ্ছি। অর্থমন্ত্রী কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের দীর্ঘসূত্রতা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের একক ইচ্ছার ওপর শুল্কায়নের নির্ভরতা কমাতে কাস্টমসে 'বিনিয়ন্ত্রণকরণ' এবং কাস্টমস আইনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন বেসরকারি অফডক ও আইসিডিতে বিদেশি মালিকানার সীমা তুলে দেয়া, এয়ারকার্গো অপারেটর স্টেশন স্থাপন এবং কাস্টমস বন্ড সুবিধার অটোমেশনের মাধ্যমে শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের প্রতি বছর বন্ড অডিটের বাধ্যবাধকতা রহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাতের ওপর ৮০% এর বেশি অতি-নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে আইটি সেবা, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যকে প্রকৃত অগ্রাধিকার খাত হিসেবে গড়ে তোলার রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী শুল্ক ধাক্কা সামলাতে আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং সেবাকে কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী নীতি সহায়তার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বাজেটে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিশেষ করে আইটি, নলেজ ইকোনমি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমি-কে বুস্ট করতে আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপিতে ১-২% থেকে বাড়িয়ে ১০%-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ 'স্টার্ট-আপ তহবিল' বরাদ্দ, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন ও ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা এবং টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আমাদের মানবসম্পদ ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির প্রস্তাবনার একটি নিখুঁত বাস্তবায়ন। এছাড়া ঔষধ শিল্পের ধারাবাহিক সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ১৭টি মৌলিক কাঁচামাল ও ক্যান্সারের ঔষধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, কাগজের এই রূপরেখা বাস্তবে কতটা আলোর মুখ দেখবে, তা নির্ভর করছে এনবিআর এবং মাঠ পর্যায়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কত দ্রুত দূর করা যায় তার ওপর। দুর্বল ব্যাংকসমূহের আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য বাজেটে যে ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, তার সঠিক তদারকি না হলে তা ব্যাংকিং খাতের মূল সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্নপূরণ করতে হলে এই কল্যাণমুখী বাজেটের সঠিক, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়নই হবে বর্তমান সরকারের আগামী এক বছরের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সামগ্রিকভাবে, বাজেটটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি আশাব্যঞ্জক রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে রাজস্ব সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, সুশাসন এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এই বাজেটই আগামী দশকের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন