বাজেটে উচ্চ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ: এমসিসিআই

ফন্ট সাইজ:

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের সাহসী উদ্যোগ। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এ কথা বলেছে। তবে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এমসিসিআই বলেছে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যা ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেশি।

এমসিসিআই বলেছে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে। এ অবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। সংগঠনটির আশঙ্কা, রাজস্ব আদায়ে চাপ বাড়লে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।
চেম্বার জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে, এক দশকের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এমসিসিআইর মতে, বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হচ্ছে। এতে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। একই সঙ্গে ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এমসিসিআই।
সংগঠনটির মতে, ৪১ লাখ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে মাসিক সহায়তা এবং কৃষকদের সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ অভ্যন্তরীণ চাহিদা সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। উৎসে কর–সংক্রান্ত (টিডিএস) বিধানে পরিবর্তন, কর ট্রাইব্যুনাল ও আপিলে আগাম কর পরিশোধের হার কমানো, কাগজবিহীন ভ্যাট প্রশাসন ও অনলাইনভিত্তিক করসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ স্বাগত জানিয়েছে এমসিসিআই। তবে কোম্পানির ন্যূনতম টার্নওভার কর যৌক্তিকীকরণে উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, ন্যূনতম টার্নওভার কর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় লাভ না করেও টার্নওভারের ভিত্তিতে কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ব্যবসার নগদ প্রবাহ ও পুনঃবিনিয়োগ সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এমসিসিআইর মতে, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও করদাতার ব্যক্তিগত অধিকার এবং জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনার পরামর্শ দিয়েছে এমসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, হয়রানিমুক্ত ব্যবসা পরিবেশ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে। সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন