শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন নিয়ে ভালো ও উঁচুমানের গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখার আগে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জিয়াউর রহমান স্মরণে সেখানে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সভায় দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণা অপ্রতুল। এটা ইতিহাসের কিছুটা কৃপণতা ও অবিচার। তাই জিয়াউর রহমানের কাজ, চিন্তা-ভাবনাসহ তার পুরো জীবন নিয়ে ভালো ও উঁচুমানের গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে আরও গবেষণার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে এত অল্প পরিসরে তা হয় না। আসলে তার ওপরে গবেষণাটা এত অপ্রতুল। আমার মনে হয় যে, এটা ইতিহাসের প্রতি কিছুটা, এক ধরনের অবিচার করা হচ্ছে। যেসব তরুণেরা উপস্থিত আছেন, তাদের সুযোগ আছে জিয়াউর রহমানের পুরো জীবন, তার চিন্তা-ভাবনাগুলো নিয়ে গবেষণা করার। তার মতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় অবদান।
ফখরুল ইসলাম বলেন, আমি তো একজন বাংলাদেশি, আমাদের এই ব্যাপারটা কিন্তু আগে ছিল না। আমি যে পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালি নই, আমি এই ভূখণ্ডের একজন নাগরিক এবং আমার যাওয়ার একটা স্থান আছে, এটা তার (জিয়াউর রহমান) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রসূত। আমি এই কাজটা প্রথম এবং সবচেয়ে বড় কাজ মনে করি।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তার মতে, ১৯৭৪ সালের ‘দুর্ভিক্ষ পরবর্তী হতাশাগ্রস্ত’ দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যেতে জিয়াউর রহমান ভূমিকা রেখেছিলেন।
কৃষি গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, আখ গবেষণা ইনস্টিটিউট, প্রত্যেকটায় গিয়ে দেখবেন যে, জিয়াউর রহমানের একটা বড় অবদান আছে।
সভায় স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি চলমান রাজনৈতিক আন্দোলন যখন স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন সেই আন্দোলনকে জিয়াউর রহমান যুদ্ধে রূপান্তর করেছিলেন। তার আগে যুদ্ধ শব্দটি তৎকালীন সময়ের কোনো নেতা কল্পনাও করতে পারেননি। যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও জিয়াউর রহমানকে তার প্রাপ্য দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এ নিয়ে তার মধ্যে কোনো ক্ষোভ, আক্রোশ বা বিক্ষোভ দেখা যায়নি।
তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ই জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্যদিয়ে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কিনা-ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সসম্মানে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।’
