কমলা ঝড় নাকি সামুরাইয়ের ঝিলিক

কমলা ঝড় নাকি সামুরাইয়ের ঝিলিক

ফন্ট সাইজ:

ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম যেন কংক্রিট আর ইস্পাতের তৈরি এক আধুনিক কলোসিয়াম। ৯৪ হাজার কণ্ঠ যখন একসঙ্গে গর্জে ওঠে, তখন শুধু গ্যালারিই নয়, কেঁপে ওঠে চারপাশের আকাশ-বাতাসও। সেই মহামঞ্চেই আজ রাত ২টায় বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান। টোটাল ফুটবল বনাম গতি আর কৌশলের এই যুদ্ধ শুরুর আগেই ছড়াচ্ছে উত্তাপ। গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এনে দেয়া ম্যাচটিতে কাগজে-কলমে ডাচরা ফেভারিট। র‌্যাংঙ্কিংয়ে তারা রয়েছে ৮ নম্বরে। জাপান ১৮তম। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জাপানের ‘ব্লু সামুরাই’ কচুকাটা করে জার্মানি ও স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। কাজেই লড়াই জমবে বেশ। রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে বিশ্বকাপে এসেছে আত্মবিশ্বাসী নেদারল্যান্ডস।

ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালিস্ট দলটির শক্তির জায়গা রক্ষণভাগ। ভার্জিল ভ্যান ডাইকের নেতৃত্বে মিকি ভ্যান ডে ভেন ও নাথান আকে গড়ে তুলেছেন দৃঢ় এক ডিফেন্স। মাঝমাঠে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও রাইয়ান গ্রাভেনবার্চ বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার দায়িত্বে থাকবেন। আক্রমণে সবচেয়ে বড় ভরসা কোডি গাকপো, যিনি বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তবে ডাচদের কিছু দুশ্চিন্তাও আছে। ইনজুরির কারণে জুরিয়েন টিম্বার স্কোয়াডে নেই। মেমফিস ডিপাইয়ের খেলা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনের চোটের কারণে পোস্টের নিচে দেখা যেতে পারে মার্ক ফ্লেকেনকে। অন্যদিকে জাপান এখন আর শুধু অঘটন ঘটানোর দল নয়। হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সংগঠিত ও ভয়ংকর দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলকে হারিয়ে জাপান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে- তারা কেবল অংশ নিতে নয়, লড়তে এসেছে। আক্রমণে আয়াসে উয়েদা ও তাকেফুসা কুবো জাপানের প্রধান অস্ত্র। কুবোর সৃজনশীলতা এবং ড্রিবলিং যেকোনো রক্ষণকে সমস্যায় ফেলতে পারে। যদিও কাওরু মিতোমা ও তাকুমি মিনামিনোর অনুপস্থিতি কিছুটা ধাক্কা, তবুও তাদের ৩-৪-২-১ ফরমেশনের হাই-প্রেসিং কৌশল প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

হেড টু হেড: দলই দলের অতীত পরিসংখ্যান ডাচদের পক্ষেই কথা বলে। তিন দেখায় নেদারল্যান্ডস জিতেছে দুটি ম্যাচ, একটি ড্র। বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাতে ২০১০ সালে ওয়েসলি স্নাইডারের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা।
এক্স ফ্যাক্টরস: এই ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ হতে পারে জাপানের আগ্রাসী প্রেসিং ফুটবলের বিপক্ষে ডাচ মিডফিল্ডের বল ধরে রাখার লড়াই। কুবো ও তার সতীর্থরা যদি ডি ইয়ংদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে পারেন, তাহলে জাপান কাউন্টার অ্যাটাকে বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। অন্যদিকে গাকপোর গতি ও গোল করার ক্ষমতা জাপানি রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলবে। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে ইনজুরিতে ছিটকে যান জাপানের অন্যতম অস্ত্র মিতোমা। কুবোর প্রতিশ্রুতি, মিতোমার অভাব তিনি বুঝতে দেবেন না। অ্যাটাকিং মিডে তার ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘জাপানি মেসি’ খ্যাত ২১ বছর বয়সী এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৪৯ ম্যাচে ৭ গোল ও ১৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন। লিভারপুল তারকা কোডি গাকপো গত বিশ্বকাপে আলো ছড়ান। ইউরোতেও ছিলেন ছন্দে। সবশেষ ৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টে গাকপো জানান দিয়েছেন নিজেকে। সবমিলিয়ে দেশের হয়ে ৫০ ম্যাচে তার অবদান ২১ গোল।
ম্যাচ গোল অ্যাসিস্ট
গাকপো ৫০ ২১ ১১
কুবো ৪৯ ৭ ১৭




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন