প্রধানমন্ত্রীকে বরণের অপেক্ষায় চায়ের রাজধানী

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এ জেলার বাসিন্দারা যেমন উৎফুল্ল। তেমনি দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ থেকে উন্নয়নবঞ্চিত হওয়ায় থাকছে কাঙ্ক্ষিত নানা উন্নয়ন প্রত্যাশার জোরালো দাবি। ১৭ই জুন ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া স্কুল খেলার মাঠ। ওই দিন এই দু’টি স্থানেই হবে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি সভা, মাঠ পরিদর্শনসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কাজ চলছে জনসভাস্থলের মাঠ, প্যান্ডেল, মঞ্চ তৈরি ও সৌন্দর্যবর্ধনের। জেলা ও উপজেলার উজ্জীবিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ দেখভাল করছেন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ওইদিন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ১৫২ জন ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১৫৬ জনসহ ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় ৩০৮ জন উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বিতরণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জেলার বাসিন্দারা যেমন উৎফুল্ল। তেমনি দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের উন্নয়ন পিছিয়ে পড়ার যাতনা সামনে এনে নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরছেন। দেশের সবচেয়ে বড় হাওরসহ একাধিক হাওর ও নদী, লেবু, রাবার, আগর আতর শিল্প ও চায়ের রাজধানী খ্যাত এ জেলায় প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স ও রাজস্ব প্রদানে অন্যতম অবদান রাখলেও দীর্ঘদিন থেকে উন্নয়নে চরম অবহেলিত ও বঞ্চিত। তাই প্রধানমন্ত্রীর আগমনে তার কাছে জেলাবাসীর প্রত্যাশা এ জেলার সড়ক ও রেলপথসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যানজট নিরসনে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, কুলাউড়া বাইপাস সড়ক, ঢাকার সঙ্গে এ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদী, হাওর, কৃষক ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, এ জেলার সম্ভাবনাময়ী পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণসহ নানা উন্নয়নের জোর দাবি তাদের। চায়ের দেশ ডাকছে, প্রধানমন্ত্রী আসছে। এখন থেকে মিছিল, মিটিং আর এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করেছে জেলার প্রতিটি উপজেলা শহর ও হাট-বাজার।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র দলীয় প্রধানের আগমনে তাকে সরাসরি একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা। উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই দলমত নির্বিশেষে নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষেরও। জেলার হাটে, ঘাটে, মাঠে সর্বত্রই এখন আলোচনা এই জেলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ জেলায় এই প্রথম কোনো অনুষ্ঠান ও সমাবেশ হচ্ছে। বিএনপি’র চেয়ারম্যানের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২য় জনসভা হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয় জেলার শেরপুরের আইনপুরের মাঠ।
জানা যায়, রাজনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান ও জনসভা হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থান সংকুলান না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তন করে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এখন মাঠ প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মাঠ দু’টিতে আসছেন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। তারা দফায় দফায় পরিদর্শন করছেন।

জনসভার আয়োজনকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতির নানা খুঁটিনাটি বিষয় তদারকি করছেন। জানা যায় ২০০৪ সালে মৌলভীবাজারে প্রথম আসেন তারেক রহমান। ২০০৫ সালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের জনসভার পর আবারো এই মাঠে এটাই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র দলীয় প্রধানের প্রথম জনসভা। তাই উৎসাহ উদ্দীপনায় জনসমাগম ও জনসভার সার্বিক আয়োজনে কোনো কমতি নেই দলীয় নেতৃবৃন্দের।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম জানান প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ ও জনসভার স্থান নির্ধারনের পর ইতিমধ্যে দ্রুততার সঙ্গে সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের প্রধানকে বরণ করতে জেলার সর্বস্থরের মানুষ অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বিগত নির্বাচনের আগে এ জেলায় ২য় নির্বাচনী জনসভায় তার দেয়া বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে উন্নয়ন প্রত্যাশায় জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের ৪টি আসনই জেলাবাসী ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘীরে উৎফুল্ল জেলাবাসী নানা উন্নয়নের দাবি তুলছেন। বিগত সাড়ে ১৫ বছর উন্নয়ন পিছিয়ে পড়া জেলারবাসী নানা উন্নয়নের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলার সার্বিক উন্নয়নে আমরা আকুল আবেদন জানাচ্ছি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন