আজ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় দ্রুত শুনানির অংশ হিসেবে হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হয়েছে মাগুরার ৮ বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলা এবং ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা। রোববার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলা দু’টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এর আগে গত ১০ই জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী শিশু মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানির জন্য এ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। এই বেঞ্চে বহুল আলোচিত পল্লবীর রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, শিশু আছিয়ার নির্মম ঘটনাটি ঘটে মাগুরা সদর উপজেলায়। ২০২৫ সালের ৫ই মার্চ রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেনি, হত্যারও চেষ্টা চালায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৮ বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২৫ সালের ১৭ই মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে করা হয়। এতে মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীব শেখের ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম।
এছাড়া, ২০১৯ সালের ৬ই এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এরপর তাকে স্থানান্তর করা হয় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় সেখান থেকে নুসরাতকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ই এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা দায়ের করেন। পরে ২৪শে অক্টোবর ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
