চট্টগ্রামে ডাকাত সর্দার ছেনী বাবুল গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার ও একাধিক মামলার আসামি মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ছেনী বাবুলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়। অভিযানে তিনটি দেশীয় এলজি, চারটি কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। পুলিশ সূত্র জানায়, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় শুক্রবার গভীর রাতে সন্দ্বীপ থানার একটি বিশেষ দল উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সূচনা কলোনি ও তাহের বাজার এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালায়। অভিযানে মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ছেনী বাবুল এবং তার সহযোগী মো. জুয়েল রানা ওরফে বুলবুলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি দেশীয় এলজি, চারটি কার্তুজ, একটি ছেনি, একটি চাপাতি, ৩১৫ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিলাদ হোসেন বাবলু দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, অপহরণ ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ২২টি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের অন্যতম সর্দার হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের ঘটনায় গ্রেপ্তার দু’জনের বিরুদ্ধে নতুন করে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম (বিপিএম) বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস ও ডাকাতি দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, গত ৭ই মে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জেলার ১৭টি থানা এলাকায় সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে ১৩টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ১৮ জন অস্ত্রধারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩ পিস ইয়াবা ও ৯২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৫২টি মামলা দায়ের এবং ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দায়ের হওয়া পাঁচ মামলায় আরও ১৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন