সৌদি আরবের কারাগারে মারা যাওয়ার ২৮ দিন পর দেশে আনা হয়েছে কিশোরগঞ্জের যুবক শাকিল (২৮)-এর মরদেহ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে শনিবার ভোর ৫টার দিকে তার মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচরের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। শাকিল পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকার ওমর ফারুকের ছেলে। সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি থাকার সময় গত ১৫ই মে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় শ্বাসকষ্টে শাকিলের মৃত্যু হয়।
শাকিলের চাচা বকুল মেম্বার জানান, অভাব-অনটনের সংসারের হাল ধরতে ২০১৯ সালে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ করে ঢাকার বনানী এলাকার আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান শাকিল। সেখানে নিয়োগকর্তার সঙ্গে আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি। পরে অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে শাকিল সৌদি পুলিশের হাতে আটক হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগার থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাকিল দেশে ফেরার জন্য জামিন করাতে প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন। পরে তার বাবা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠান।
শাকিলের ফুফু মোছা. চায়না বেগম জানান, মৃত্যুর প্রায় ১০ দিন আগে তার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন শাকিল জামিন ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সৌদিতে আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় শাকিল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ফোনে তিনি তার মা ও ফুফুকে বলতেন, ‘আমি খুব কষ্টে আছি। শরীর শুকিয়ে গেছে। জেলের খাবার খেতে পারি না। আমাকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে নিয়ে যান।’ স্বজনদের দাবি, গত ১৫ই মে কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি হলে শাকিল শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবার জানায়, মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৮ হাজার সৌদি রিয়াল প্রয়োজন হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। এ অবস্থায় বিষয়টি কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফের নজরে আনা হলে তিনি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমকে অবহিত করেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সরকারি সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। শাকিলের বাবা ওমর ফারুক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন কীভাবে সংসার চলবে জানি না। সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের জন্য সহযোগিতা চাই।
