টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ওমানকে তুলোধুনো করলো অস্ট্রেলিয়া। দু’দলের জন্যই নিয়মরক্ষার ম্যাচটিতে ওমানকে ১০৪ রানে আটকে দেয় অস্ট্রেলিয়া। স্রেফ ৯.৪ ওভারেই ৯ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় অজিরা। সীমিত সংস্করণের বিশ্বকাপে এটি যৌথভাবে দ্রুততম রান তাড়ায় জয়ের রেকর্ড। তবুও স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের পর খুশি হতে পারছে না সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ আগের মতোই জানালেন, ড্রেসিংরুম ভীষণ হতাশায় আচ্ছন্ন। দ্রুততম রান তাড়ায় জয়ের অন্য রেকর্ডটি ২০২৪ বিশ্বকাপের। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও ৯.৪ ওভারে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। এদিন রান তাড়ায় তাণ্ডব শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ৩৩ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন মার্শ। আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড ফেরেন ১৯ বলে ৩২ রানের ক্যামিওতে। তিনে নামা জশ ইংলিসের ব্যাট থেকে আসে ৬ বলে ১২ রান। তবে এসবের জন্য যে অনেক দেরি হয়ে গেছে। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে আগেই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার। তাই স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের পর খুশি হতে পারছে না দলটি।
ম্যাচ শেষে পর মার্শ বলেন, ‘আমরা সুযোগ হারিয়েছি। আমি আগেও অনেকবার বলেছি যে, ড্রেসিংরুম এখন ভীষণ হতাশায় আচ্ছন্ন। আমাদের যে কয়েকটি ম্যাচে সেরাটা খেলার দরকার ছিল, আমরা তা পারিনি।’
এদিন একইসঙ্গে ৩টি রেকর্ডে নাম ওঠে ৩৩ বছর বয়সী জাম্পার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে চারবার এক ম্যাচে ৪টি বা তার বেশি উইকেট নিলেন এ তারকা স্পিনার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চবার ৪ উইকেটের রেকর্ড। তিনবার করে ৪ উইকেট নিয়ে এতদিন জাম্পার সঙ্গী ছিলেন সাকিব আল হাসান, রশিদ খান, আনরিখ নরকিয়া ও সাঈদ আজমল। এবার তাদের ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন জাম্পা। এছাড়া সীমিত সংস্করণের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হিসেবে এখন দ্বিতীয় তিনি (৪৪) তার নামের পাশে এখন ৪৪ উইকেট। জাম্পা টপকান আফগান অধিনায়ক রশিদ খানকে (৪৩)। জাম্পার সামনে শুধু সাকিব আল হাসান (৫০)। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচসেরার রেকর্ডেও দুইয়ে উঠে গেছেন অজি তারকা লেগ স্পিনার। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ ম্যাচসেরার পুরস্কার। ক্রিস গেইল, মাহেলা জয়াবর্দনে ও শেন ওয়াটসন জিতেছেন ৫ বার করে।
এতো পাওয়ার ভিড়েও জাম্পার কথায় মিশে থাকলো বিষণ্ণতার ছাপ। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, একদম শূন্য লাগছে। চার উইকেট পাওয়ার পর আমার সবচেয়ে বাজে অনুভূতি হয়তো এটিই। কালকেই দেশের পথে উড়াল দিচ্ছি। সত্যি বলতে, এমন কিছু তো ভাবনাতেও ছিল না। তাই এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়।’
শুধু টি-টোয়েন্টি না, ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিলিয়েই ২০০৯-এর পর এবারই প্রথম গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আশানুরূপ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করা অজিরা পরের দুই ম্যাচেই হার দেখে। জিম্বাবুয়ের পর সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা নাকানিচোবানি খাওয়ায় সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। মঙ্গলবারের ম্যাচটির পরই, এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিশ্চিত হয় মিচেল মার্শদের।
রেকর্ড জয়ের পরও হতাশায় আচ্ছন্ন অস্ট্রেলিয়া শিবির
স্পোর্টস ডেস্ক
২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
