বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজক তিন দেশে যৌনকর্মীদের রমরমা ব্যবসা

বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজক তিন দেশে যৌনকর্মীদের রমরমা ব্যবসা

ফন্ট সাইজ:

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে উত্তর আমেরিকায় হাজারো ইউরোপীয় যৌনকর্মীর মেলা বসেছে বলে নতুন এক জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন এবং প্রাপ্তবয়স্ক সেবার চাহিদা বাড়ার প্রত্যাশায় এ পেশার অনেকেই এসব দেশ সফরে আছেন অথবা সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ইউরোপভিত্তিক যৌনকর্মীদের প্ল্যাটফর্ম এরোবেলা পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, ইউরোপের প্রায় ৯ হাজার যৌনকর্মী ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ উপলক্ষে উত্তর আমেরিকায় হয়তো গিয়েছেন অথবা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আরও প্রায় ২২ হাজার এই সফরের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নাউ টরন্টো।

জরিপে যা উঠে এসেছে

জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী যৌনকর্মীদের প্রায় ২ শতাংশ নিশ্চিতভাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে উত্তর আমেরিকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরও ৫ শতাংশ বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন। বিশেষ করে বৃটেন ও জার্মানির অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। বৃটেন থেকে ৬৩৪ জন জানিয়েছেন যে, তারা বিশ্বকাপ চলাকালে উত্তর আমেরিকায় যাচ্ছেন। আরও ১৫৮৫ জন সফরের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। জার্মানি থেকে ৫১৫ জন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরও ১,২৮৯ জন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। জরিপে অংশ নেয়া এক হাজারেরও বেশি উত্তরদাতা শুধু এই দুই দেশ থেকেই এসেছেন।

কেন বাড়ে আগ্রহ?

এরোবেলার দাবি, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলো ঐতিহাসিকভাবে যৌনশিল্পের জন্য লাভজনক সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, এ ধরনের আয়োজন বিপুল পর্যটক সমাগম ঘটায় এবং সামগ্রিক ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি পায়। প্ল্যাটফর্মটির ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে কিছু যৌনকর্মী বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় বাড়তি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘণ্টাপ্রতি ৮০০ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক এবং পুরো দিনের জন্য ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত বুকিংয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঝুঁকি

জরিপে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক যৌনকর্মী আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারেন। মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, গত দশ বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের যৌনকর্মে জড়িত থাকার ইতিহাস থাকলে কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হতে পারে। জরিপে বলা হয়েছে, যে দেশে ওই কাজ বৈধ ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করার কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও, অতীতের এমন কর্মকাণ্ড ভিসা বা প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এক কানাডীয় নারীর অভিজ্ঞতা

কানাডীয় এসকর্ট লুসি হাক্সলি এরোবেলাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাকে আলাদা করে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে জেরা করা হয়, তার মোবাইল ফোন ও লাগেজ তল্লাশি করা হয়, পরে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। পাঁচ বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

জরিপের পদ্ধতি

এরোবেলা জানিয়েছে, ইউরোপব্যাপী এই পরিসংখ্যান সরাসরি সব দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়নি। জরিপের তথ্য মূলত বৃটিশ ও জার্মানির উত্তরদাতাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে। পরে ইউরোপে আনুমানিক ১০ লাখ যৌনকর্মীর একটি ভিত্তি ধরে আয়, ভ্রমণসামর্থ্য এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে হিসাব সম্প্রসারণ করা হয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর যৌনকর্মীদের আন্তঃমহাদেশীয় ভ্রমণের সামর্থ্য তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের ভ্রমণ করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। তাদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা ব্যক্তিভেদে এবং দেশভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এছাড়া ভ্রমণ ব্যয়, ভিসা প্রাপ্তি এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদার মতো বিষয়ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে।

SHINGRAPUR

৩ ঘন্টা আগে

অনৈতিক বা অবৈধ উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ভিসা বাতিল ও নির্বাসনের ঝুঁকি থাকে। বড় টুর্নামেন্ট চলাকালীন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সচেতনতা ও প্রতিরোধক্যাম্পেইন: "Sex buying is not a game" এর মতো স্লোগান মূলত বড় ক্রীড়া ইভেন্টে যৌন নিপীড়ন এবং মানব পাচার রোধে সচেতনতা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

মন্তব্য করুন