বণিক বার্তা
‘তিন বছর পর সরকারের ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৩৪ লাখ কোটি টাকায়’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ক্রমেই বাড়ছে সরকারের ঋণের বোঝা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে, মার্চ শেষে তা বেড়ে প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থ বিভাগের সর্বশেষ প্রক্ষেপণ বলছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি প্রায় ৩৪ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সুষম সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসংগতি এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিধি ও সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎস থেকেই ঋণ গ্রহণের প্রবণতা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক নীতি বিবৃতির প্রক্ষেপণ বলছে, আগামী তিন বছরে এ ঋণ স্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছবে যা দেশের সার্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। এর পরবর্তী অর্থবছরে তা আরো বেড়ে ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হবে এবং তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে এ ঋণ স্থিতি দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। এ বিশাল ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎসের অবদান থাকবে ১৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।
ঋণের এ উল্লম্ফন স্বাভাবিকভাবেই সুদ পরিশোধের ব্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারকে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বাজেটের একটি বড় অংশই চলে যাবে বিগত বছরগুলোর ঋণের মাশুল গুনতে, যা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বরাদ্দকে করবে সংকুচিত।
সরকারের এ ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ রাজস্ব আয়ের শ্লথগতি। গত পাঁচ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব আয় বেড়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ, সেখানে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪২ শতাংশ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে করের টাকায় সরকারের পুরো পরিচালন ব্যয় মেটানো তো দূরের কথা, বেতন-ভাতা, পেনশন ও সুদের টাকা পরিশোধের পর কৃচ্ছ্রসাধন করেও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ফলে সরকার বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অর্থনীতির পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’। সরকার যখন নিজের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে মন্থর করে দেয়।
সরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন ঘটানোর মতো কোনো বড় প্রশাসনিক সংস্কার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বাজেট ঘাটতি অব্যাহত থাকবে এবং সে ঘাটতি পূরণে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতেই হবে। প্রশ্ন হচ্ছে এ ঋণ ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে কিনা। যদি ঋণ করে ঘি না খাওয়া হয়, ঋণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্প থেকে রিটার্ন নিশ্চিত করা যায় এবং এ ঋণের কারণে যদি বেসরকারি খাত ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় তাহলে এটি সম্ভব।’
প্রথম আলো
‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় বাড়তি কর, মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়বে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর অগ্রিম করের হার বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে যেকোনো ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা তোলার সময় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে।
জাতীয় সংসদে গত বৃহস্পতিবার উত্থাপিত নতুন বাজেটের অর্থবিলে এ-সংক্রান্ত অগ্রিম করের প্রস্তাব অনুসারে সঞ্চয়পত্রের সুবিধাভোগীরা আগের চেয়ে কম মুনাফার টাকা হাতে পাবেন। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ বাড়বে।
বাজেটে এমন ঘোষণার আগে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার বিধান ছিল। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর এত দিন যে ৫ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হতো, তা চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত হতো। প্রস্তাবিত বাজেট সঞ্চয়পত্রের চূড়ান্ত কর দায় ব্যবস্থাটি তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই হার বেড়ে এখন ১০ শতাংশ হয়ে যাবে।
মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগী অনেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন। তাঁদের অনেকেই সংসারের খরচে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা কাজে লাগান। বাড়তি অগ্রিম করের জন্য তাঁদের মুনাফার টাকার পরিমাণ এখন কমে যাবে।
একটি উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত পরিবার সঞ্চয়পত্রের ওপর মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রতি এক লাখ টাকার জন্য বিনিয়োগকারীর মাসিক মুনাফার পরিমাণ ৯৯৪ টাকা ১৭ পয়সা। মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার ফলে গ্রাহক হাতে পান।
আগে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার বিধান ছিল। সেই হার বেড়ে এখন ১০ শতাংশ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর করের হার দ্বিগুণ হওয়ায় মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়বে। কারণ, দেশের মধ্যবিত্তের একটা বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা সংসার চালাতে ব্যবহার করে। এখন মুনাফা থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা কেটে নিলে চাপে পড়বেন তাঁরা। মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে স্বস্তি দিতে এই বাড়তি অগ্রিম কর বাদ দেওয়া উচিত।
এনবিআর বলছে, সমন্বয় করা যাবে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, অর্থবিল-২০২৬-এর মাধ্যমে অগ্রিম কর-সংক্রান্ত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ১৬৩ ধারা সংশোধন করে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি চূড়ান্ত কর দায় প্রথা বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে অগ্রিম কর কেটে রাখার পর বছর শেষে তা সমন্বয় করা যাবে বলে জানিয়েছে এনবিআর। ওই ধারা অনুসারে, এখন থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে। তবে কোনো করদাতার রিটার্ন জমার পর যদি দেখা যায়, সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অগ্রিম কর কেটে রাখা অর্থ প্রদেয় আয়করের চেয়ে বেশি, তাহলে অতিরিক্ত অংশের টাকা ফেরত পাবেন তিনি। এ জন্য ব্যাংক হিসাব নম্বর জানিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই করে ১২০ দিনের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেবে এনবিআরের আয়কর বিভাগ।
যদিও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীর কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই। করযোগ্য আয়ও নেই। বছর শেষে তাঁরা রিটার্নও দেন না। কিন্তু আয়কর আইনের ১৬৩ ধারা সংশোধনের ফলে তাঁদের কাছ থেকে আগের চেয়ে আরও বাড়তি অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে।
এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘এবারের বাজেটে সঞ্চয়পত্র নিয়ে নতুন কিছু করা হয়নি।’
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে। মেয়াদপূর্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৭৭ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাহসী বাজেট। এ বাজেটে যেমন ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগ আছে, তেমনি স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রচেষ্টাও বিদ্যমান। তবে ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর রূপরেখা দৃশ্যমান হয়নি। সামগ্রিকভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের অনেক ভালো বাজেটও বাস্তবায়নের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই সরকারকে বাজেট বাস্তবায়নে অর্থবছর শুরুর প্রথম দিন থেকে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার যুগান্তরের কাছে ব্যবসায়ী সংগঠনের কয়েকজন নেতা এমন মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, এ বাজেটে সরকারের দেশপ্রেমের অনেক স্বাক্ষর রয়েছে। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তাদের এখনো ভাবাচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই। শিল্পের উন্নতি করতে হলে সবার আগে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সব বাধা দূর করে দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাও জরুরি। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তবে রাজস্ব আহরণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি খাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না, সেবার মান ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
বিসিআই সভাপতি: প্রস্তাবিত বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংস্কারমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তার মতে, ১৯ কোটি মানুষের জন্য এ ধরনের বড় বাজেট দরকার আছে। তবে বাজেট বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য বাজেট বাস্তবায়নের প্রথম দিন থেকেই সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের গৃহীত সংস্কারমুখী পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত, কর ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের অঙ্গীকার দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালুসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে, যা ইতিবাচক হিসাবে কাজ করবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকে যুক্ত করা আবশ্যক। কারণ বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং বাংলাদেশের এ সুযোগ গ্রহণ করার সক্ষমতা রয়েছে। ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণ প্রস্তাবগুলো সাহসী পদক্ষেপ। পাশাপাশি উন্নয়ন লক্ষ্য হিসাবে ১০টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও সুনীল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে।
বিটিএমএ সভাপতি: শওকত আজিজ রাসেলের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি সক্ষমতা ও ব্যবসা সহজীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ইতিবাচক। স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, সোলার বিদ্যুতে নীতিগত সুবিধা এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের পদক্ষেপ প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তাদের এখনো ভাবাচ্ছে।
কালের কণ্ঠ
‘সবার জন্য এই বাজেট’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘সবার বাজেট’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ বাজেট কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়; দেশের সব মানুষের প্রয়োজন, সম্ভাবনা ও জীবনমানের উন্নয়নকে সামনে রেখেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কৃষক, নারী, শিল্পী, থিয়েটারকর্মী, কামার-কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সমাজের এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই, যাদের কথা এবারের বাজেটে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করার পর গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির মূল সুবিধাগুলো সীমিত কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত ছিল। ফলে সমাজের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নের মূলধারার বাইরে থেকে গেছে। বর্তমান সরকার সেই বাস্তবতা পরিবর্তন করতে চায়।”
তিনি বলেন, ‘আমরা অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে।
সে কারণেই বাজেট প্রণয়নের সময় কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যেক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেটের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন, তারপর আসে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময়টিতে বাজেটের সত্যিকার যে কার্যক্রম, যেটিতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটার কথা, সেই বিষয়টি আমরা বহু বছর ধরে করে আসছি। দেড় দশকের বেশি সংগ্রামের পর সবার একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছি।
সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক। সেসবের প্রতিফলন ঘটাতে আমরা চেষ্টা করেছি সবার সঙ্গে কথা বলতে ও মতামত নিতে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘বিগত সময় দেশের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় চলে গেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যে কারণে আমরা সম্পদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে উঠেছে। এই সীমাবদ্ধতা, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আবার সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বাজেট করা ছিল কঠিন বিষয়। আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি মানুষকে এই বাজেটের আওতায় নিয়ে আসতে।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা কাটাতে ২ বছর লাগবে’। খবরে বলা হয়, দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতা অনেক বেশি। এ কারণে অর্থনীতির ভঙ্গুরতা কাটাতে অন্তত দুই বছর লাগবে। তৃতীয় বছরে গিয়ে হয়তো অর্থনীতি সামনের দিকে এগোবে। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে। বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এভাবেই অর্থনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের ভাবনা তুলে ধরেছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পর বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। বাজেটে প্রত্যেকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগ সহজ করা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অর্থমন্ত্রীর বাইরে প্রশ্নের জবাব দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে এবারের বাজেট দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমানোর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বহিঃখাতের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার অন্যতম লক্ষ্য মানুষকে স্বস্তি দেওয়া। পুলিশ, র্যাব দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কোনো ভালো ব্যবস্থা নয়। বরং নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ঠিক রাখা হবে।
তিনি বলেন, চুরির লক্ষ্যে কোনো প্রকল্প হবে না। প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ মুনাফা, প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থান ও পরিবেশের জন্য উপযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে কিনা– এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মূল্যস্ফীতি অনেক বাড়লেও নতুন পে স্কেল হয়নি। এখন সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বেতন বাড়ালে দুর্নীতি কমবে বলে তিনি মনে করেন।
কয়েকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাজেটে অনেক খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, আবার একই সঙ্গে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। দুয়ের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হবে? তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ঋণ নির্ভরতা থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী মনে করেন, শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; বরং বাজার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা, মধ্যস্বত্বভোগীর ব্যয় কমানো এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করাই মূল সমাধান।
লুটপাট ও মানি লন্ডারিংয়ের কারণে ব্যাংকগুলোতে মূলধনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে তহবিল খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক পড়েছে মূল্যস্ফীতির ওপর। আবার বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে আমদানি করা সব পণ্যের দামও দেশের বাজারে বেড়ে যাচ্ছে। বহির্বিশ্বের কারণে যে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, সেখানে সরকারের কিছু করার থাকে না। তবে চেষ্টা করতে হবে অভ্যন্তরীণভাবে কীভাবে ব্যবসায়ের খরচ কমিয়ে আনা যায়।
ইত্তেফাক
‘বাজেটে ছাড়, বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় ভোক্তা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের উপর উেস কর-এ বড় ছাড় দিয়েছে। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। উলটো চাল, আটা ও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে কর ছাড়ের ঘোষণায় ক্রেতারা খুশি হলেও এটা কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।
বাজেট পেশের পরদিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরানবাজার ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। বাজেটে যেসব নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেল। সবমিলিয়ে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উেস কর আড়াই শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
কিন্তু বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। গতকাল খুচরা বাজারে মোটা ও মাঝারিমানের চাল ইরি, স্বর্ণা, পাইজাম ও লতার দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ডালের বাজারেও একই চিত্র। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও পণ্য দুটির দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে। গতকাল বাজারে মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই দিন আগেও ৫২ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দুই দিনের ব্যবধানে মোটা চালের কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে তা ৫২ থেকে ৬০ বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে সাদা খোলা আটার দামও। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে তা ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এসব পণ্য আগের কেনা। পুরোনো দামে কেনা পণ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর ছাড়ের সুবিধা বাজারে প্রতিফলিত হবে না।
তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাজেটে কেবল কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সুবিধা পেতে কিছুদিন সময় লাগবে। নতুন আমদানিকৃত পণ্য বাজারে আসলে আশা করি, দাম কমে যাবে। এদিকে চাল, ডাল, আটার দাম বাড়লেও বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম কমেছে। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পটোল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁকরোল, বেগুন, করলা, বরবটি, ঝিঙা ও চিচিঙ্গাসহ বেশির ভাগ সবজি ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মুরগির বাজারেও স্বস্তির চিত্র রয়েছে। প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে ৪-৫ বছর লাগবে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সবার জন্য বাজেট দেয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেটা স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে নিতে সময় লাগবে। আগামী দুই বছর কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এজন্য শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে এবং শ্রমিকরা উচ্চ আয়ের চাকরি পেতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, বর্তমানে নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরিবারভিত্তিক সহায়তা, কৃষি খাত, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এখন বড় বড় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পে ‘ভ্যালু ফর মানি’ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার।
বাজেটে সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এখন সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার কথা। কারণ অভাব থাকলে দুর্নীতির একটা প্রবণতা থাকে। ১১ বছর ধরে পে-স্কেল হয়নি, অন্য দিকে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সুতরাং এটা সমন্বয় করা দরকার। বেতন বাড়লে, আয় বাড়বে তখন নিশ্চয় দুর্নীতি কমার কথা।
বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেটে পরিষ্কারভাবে বলা আছে চাকরির কথা। আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব। বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছি কর্মসংস্থানের জন্য। স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা জোর দিচ্ছি। দক্ষ একজন শ্রমিকের চাকরি দেশে-বিদেশে হওয়া খুবই সহজ। এই জন্য আমরা স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত নানান প্রকল্প হাতে নিচ্ছি।
বাজার বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, র্যাব কিংবা সরকারি লোক দিয়ে পিটিয়ে করার বিষয় না, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক পলিসি ও ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনম ‘বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী: দুই বছরে ঘুরে দাঁড়াবে দেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এটি শুধু আরেকটি বাজেট নয়, অর্থনীতির গতিপথ বদলের একটি রূপরেখা’—২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এমন বার্তাই দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেট প্রচলিত ধারা থেকে ভিন্ন দাবি করে তিনি বলেছেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ, সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্জাগরণ এবং দীর্ঘদিন মূলধারার বাইরে থাকা মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই এর মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনার ৮০ শতাংশও বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
জাতীয় সংসদে গত বৃহস্পতিবার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এর পরপরই মূল্যস্ফীতি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের সংকট, কালোটাকা, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি, ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজেটের বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসে।
প্রতিবছরের বাজেট-পরবর্তী রেওয়াজ অনুযায়ী এসব প্রশ্নের জবাব দিতে এবং সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বাজেটের পরদিন গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন; কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সব মানুষের জন্য বাজেট
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি বাজেটে। এবার ধনী-গরিব, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশানির্বিশেষে সবার কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সবার জন্য বাজেট দেওয়া হয়েছে। সরকারে আসার পর মাত্র দেড় থেকে দুই মাস সময়ে বাজেট প্রস্তুত করলেও এমন কোনো শ্রেণি নেই, যাদের কথা ভাবা হয়নি। তিনি বলেন, অর্থনীতির মূলধারার বাইরে থাকা মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য। অর্থনীতিকে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাত থেকে বের করে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চায় সরকার।
৮০ শতাংশ বাস্তবায়নই যথেষ্ট
এই বাজেট শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, এর সঙ্গে বাস্তবায়নের একটি স্পষ্ট রূপরেখাও যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনার ৮০ শতাংশও বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তাঁর মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি, সৃজনশীল অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের সমন্বয়ই আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হবে।
দেশ রূপান্তর
‘সম্মত নিয়ম কঠোরভাবে মানতে ভারতকে তাগিদ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি, প্রটোকল ও নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য বাংলাদেশ ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গতকাল শুক্রবার এক প্রেস বিবৃতিতে এ কথা জানায়।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৭তম এ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। আর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
বিজিবির বিবৃতিতে বলা হয়, মহাপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা, সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালানো এবং কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উভয়পক্ষ সীমান্ত হত্যা ও হামলা শূন্যে নামিয়ে আনতে সীমান্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণে সম্মত হয়। নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলো তদন্ত করা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়।
বিজিবি থেকে বলা হয়েছে, বিএসএফ কর্তৃক রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমার নাগরিক ও ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া (পুশইন) সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। বিজিবি ডিজি বলেন, যেকোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হন, তবে তাকে প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে। তিনি বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানান। বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সব অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উভয় পক্ষ পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও বিজিবি তুলে ধরে। উভয় পক্ষ চোরাচালান প্রতিরোধে একমত হয়।
বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে ভারত কর্তৃক বেড়া ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের বিচ্যুতি সংশোধনের জন্য আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যতে সব নির্মাণ কার্যক্রম কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনাক্রমে করার তাগিদ দেন। তিনি সীমান্ত রেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিট লাইট, সিসি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপন সম্পর্কেও উদ্বেগ জানান। তিনি অননুমোদিতভাবে ডিউটি পোস্ট, ধাতব সড়ক ও কংক্রিট কাঠামো নির্মাণের চলমান ঘটনা তুলে ধরেন এবং ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। উভয়পক্ষ সম্মত হয় যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান নিয়ম ও প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘তরুণদের অগ্রাধিকার বাজেট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সরাসরি বরাদ্দ এবং স্টার্টআপ তহবিল মিলিয়ে দেশের ৫ কোটি তরুণ বা যুবকের ভাগে মাথাপিছু বরাদ্দ পড়ে প্রায় ৬৫৭ টাকা। তবে শিক্ষা, কারিগরি ও আইটি খাতের মতো যুব-সম্পৃক্ত পরোক্ষ খাতগুলোর হিসাব যুক্ত করলে এই মাথাপিছু বরাদ্দের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার টাকা। জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের তরুণ সমাজের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। ফলে সেই আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বাজেটে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য কী বরাদ্দ থাকছে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট উপস্থাপন করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা এবং স্টার্টআপ ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ৭০০ কোটি টাকা মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। দেশের ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি যুব জনসংখ্যাকে প্রায় ৫ কোটি ধরে মাথাপিছু বরাদ্দের মাথাপিছু সরাসরি বরাদ্দ আসে প্রায় ৬৫৭ টাকা। জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী দেশে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের যুব ধরা হয়। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সাধারণত ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের যুব হিসেবে বিবেচনা করে। বিবিএসের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ। সে হিসেবে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি জনসংখ্যার পরিমাণ আনুমানিক ৫ কোটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দিয়ে যুবসমাজের বাজেটের হিসাব করা যাবে না। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, মানবসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে তরুণদের জন্য পরোক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। শিক্ষা খাতের মোট বরাদ্দের একটি বড় অংশ (উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি) এবং যুববান্ধব অন্যান্য খাতের উপবরাদ্দ মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা তরুণদের পেছনে পরোক্ষভাবে ব্যয় হবে। এই বিশাল অঙ্ককে ৫ কোটি তরুণ দিয়ে ভাগ করলে জনপ্রতি বাজেট দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেটে তরুণদের ভাগ কত ছিল: জুলাই অভ্যুত্থানের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের যে বাজেট উপস্থাপন করে সেখানে শিক্ষা, কারিগরি এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো যুববান্ধব পরোক্ষ উপখাতগুলো মিলিয়ে মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের উত্থাপিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সরাসরি যুব ও ক্রীড়া খাতের মূল বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে ‘তারুণ্যের উৎসব’ এবং নতুন স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ তহবিল মিলিয়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তরুণদের উন্নয়নসংশ্লিষ্ট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকাকে ৫ কোটি যুব জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে জনপ্রতি পরোক্ষ বরাদ্দ আসে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ টাকা। শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার মূল বাজেট থেকে হিসাব করলে জনপ্রতি সরাসরি প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়ন বরাদ্দ পড়েছিল প্রায় ৪৮৪ টাকা। সে হিসেবে বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের সামগ্রিক বরাদ্দ ধরে হিসাব করলে অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় তরুণদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বেড়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
যেভাবে ব্যয় হবে তরুণদের বাজেট : পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল অর্থ মূলত তিনটি পৃথক বিভাগ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রকল্পের মাধ্যমে খরচ করা হবে। ১. মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ : তরুণদের উচ্চশিক্ষা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন এবং বৃত্তির জন্য এই খাতে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষাঋণ প্রকল্প চালু হবে; দেশের তরুণী বা ছাত্রীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে; বৈশ্বিক বাজারে তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষা (যেমন জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, ফ্রেঞ্চ বা আরবি) শেখানো বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
