প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘চিন্তাশীল বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’র ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বলেছেন, বাজেট চিন্তাশীল হলেও এর বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। গতকাল বিকালে বাজেট পেশের পর সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এই চিন্তাশীল বাজেটের মূল যে নীতি কাঠামোর দিক তাতে আপনারা দেখবেন যে একটা অর্থনৈতিক স্থিতায়নের জন্য এক বছরের সময়ের কথা বলা হচ্ছে। আরও তিন বছরের পুনরুদ্ধারের সময়ের কথা বলা হচ্ছে এবং আরও এক বছর এটাকে বিনির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। তো যে সমস্ত পদক্ষেপের কথা এখন পর্যন্ত এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে সরকার অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য আনার জন্য বিনিয়ন্ত্রণ এবং একইসঙ্গে উদারীকরণের ওপর বড় জোর দিয়েছে। আরেকটা বিষয় আছে সেটা হলো, এটার ভেতরে একটি মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। সেজন্য বিভিন্ন বরাদ্দের উল্লেখ আছে। যুবসমাজ, পিছিয়ে পড়া মানুষ এদের কথাও একইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আর তৃতীয় যেটা বিনিয়ন্ত্রণ এবং মানবিকতার পাশে এসেছে সেটা হলো ডিজিটালাইজেশন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়। আমি এই তিনটি বিষয়কে চিহ্নিত করছি। কিন্তু বিষয়টা এখানে না। নীতিকাঠামো নিঃসন্দেহে খুবই শক্তিশালী এবং সেই অর্থে সূক্ষভাবে বিচক্ষণের সঙ্গে তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই নীতি কাঠামোকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে আর্থিক কাঠামো সেটা অত্যন্ত দুর্বল। কারণ এটার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই। যে অর্থের প্রাক পালন করা হয়েছে সেটা খুব বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না এবং আর্থিক কাঠামো যেটা করা হয়েছে তার ভেতর বিপুল বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এই আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাটা সেই জন্য কারণ অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেটা মনে হয় যে, হয় তো যদি আর্থিক বিপর্যয় দেখা দেয় তাহলে এগুলোর ক্ষেত্রে কাটছাঁট হবে। তো শেষ বিচারে এই বাজেটের বাস্তবায়নটাই তো বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে এবং এই সুন্দর বাজেটটিকে আগামী দিনে কীভাবে উনারা বাস্তবায়ন করেন সংস্কারের পথে যেয়ে সেটাই দেখতে চাই। সুন্দর বাজেট, আমি এটাকে চিন্তাশীল বাজেট বলছি। কিন্তু এইটার ভিত্তি এই চিন্তাটাকে বাস্তবায়ন করার ভিত্তি আর্থিকভাবে দুর্বল।
