সিলেটের দুই মাজারের হিসাব চেয়েছেন ডিসি

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ নিয়ে বুধবার জেলা প্রশাসক মাজার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মোতাওয়াল্লি পক্ষদের নিয়ে বৈঠক করলেও প্রাথমিকভাবে কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। দরগাহে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার কর্তৃপক্ষ এক শুক্রবারের হিসাব দেখালেও হযরত শাহপরান (র.) মাজার কর্তৃপক্ষ কোনো হিসাব দেখাতে পারেননি। অথচ এ দু’টি মাজারে বছরে কয়েক কোটি টাকা আয় হয়। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৭০০ বছর ধরে সিলেটের এ দু‘টি বড় মাজার পরিচালনা করছেন খাদিমপক্ষের লোকজন। যদি ওয়াক্ফ এস্টেটের অধীনে ওই দু’টি মাজার পরিচালনা করার কথা রয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নামে থাকলেও কার্যত খাদেম অংশই এটি পরিচালনা করছেন।

সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে মাজার পরিচালনার বিষয়ে একটি পত্র দেয়া হয়। ওই পত্রে মাজার পরিচালনা ও আয়-ব্যয়ের বিষয়েও নানা প্রশ্নের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশন সিলেটের জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবগত করেন। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের পত্র পেয়ে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম। তিনি দু’টি মাজারের কর্তৃপক্ষকে মাজারের সার্বিক ব্যবস্থা ও আয় ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনার জন্য তার কার্যালয়ে ডাকেন। এর প্রেক্ষিতে বুধবার মাজারের খাদেম ও সরেকুমরা উপস্থিত হন। একইসঙ্গে বৈঠকে সিলেটের দরগাহ মাদ্রাসার মুহতামিম, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন, মহানগর সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব, জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা উদ্দিন ভুইঁয়া, ওয়াক্ফ স্টেটের কর্মকর্তা, সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট জেলা কার্যালয়ের এডিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের এডিসি মাসুদ রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উভয় মাজারের কমিটির নেতৃবৃন্দ দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ড দেখাতে পারেননি। তারা জানান, বৈঠকে প্রথমে মাজার ব্যবস্থাপনার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। কীভাবে মাজার পরিচালনা করা হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চান জেলা প্রশাসক। এ সময় সংশ্লিষ্ট মাজার কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রশাসককে বিষয়গুলো অবগত করেন। মাজার কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে দেখা গেছে, মাজার খাদেমরা নিজেরাই কমিটি করে এসব মাজার পরিচালনা করে চলেছেন। মাজারের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব তেমনভাবে রাখা হয় না। অনেকেই দান খয়রাত করেন। এসব দান খয়রাতের টাকা মাজারের খাদেমরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে যান। বৈঠকে উপস্থিত থাকা সিলেট মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব মানবজমিনকে জানিয়েছেন, মূলত পরিকল্পনা কমিশনের পত্র মোতাবেক ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার নোটিশেই দুই মাজার কর্তৃপক্ষকে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি। হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের খাদেমদের পক্ষ থেকে এক শুক্রবারের আয় প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো দেখানো হয়। ওই টাকা ক্যাশের দায়িত্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদেম নিয়ে গেছেন। হযরত শাহপরান (র.) মাজার কর্তৃপক্ষ কোনো হিসাব দাখিল করেননি। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক তাদের হিসাব, মাজার পরিচালনার ধরন, ব্যয়সহ সব হিসাব পরবর্তী বৈঠকে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পরের বৈঠকটি আরও বড় পরিসরে হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, হযরত শাহজালাল (রহ) ও তদীয় ভাগ্নে হযরত শাহপরান (রহ.) কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সম্পদ নয়। তারা গোটা সিলেটবাসীর সম্পদ। তিনি বলেন, এখন থেকে সকল আয় ও ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছতার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন