চৌগাছায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ফেরিওয়ালাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

যশোরের চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল হোসেন (৪০) নামে এক কসমেটিকস ফেরিওয়ালার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের মসজিদ মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল মুক্তদাহ গ্রামের ওদুত খন্দকারের ছেলে। জুয়েল ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকায় কসমেটিকস বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মায়া খাতুন (৩৫) আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমান লালের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপি’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। নিহতের স্ত্রী মায়া খাতুন অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার স্বামীর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাবু হোসেন, সুমন হোসেন, ইদ্রিস আলী, নাহিদ হাসানসহ ৮ থেকে ১০ জন আমার স্বামীকে মারধর করে। আমি বারবার তাদের কাছে স্বামীর প্রাণভিক্ষা চেয়েছি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি। মায়া খাতুন আরও বলেন, হামলার পর তার স্বামীকে আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। অভিযুক্তদের ভয়ে পরিবার ও গ্রামের অনেকেই এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে যশোরে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হলেও দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হয়েছে। ঘটনাটি থানা থেকে অল্প দূরত্বে ঘটলেও তাৎক্ষণিক পুলিশি হস্তক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জুয়েলকে ঘিরে এলাকায় বিভিন্ন সময় বিতর্কও ছিল। অতীতে তার বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনার অভিযোগ ওঠে। প্রায় একবছর আগে তার ছুরিকাঘাতে রফিকুল ইসলাম নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্বের বিষয়টি অস্বীকার করে চৌগাছা থানার ওসি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন