আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবহন খাতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় কমছে। যোগাযোগ অবকাঠামোর বিভিন্ন খাতেও বাজেট কমছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবিত বাজেটে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় পরিবহন খাতের চারটি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দই কমানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট হয়েছে সেতু বিভাগে, যেখানে বরাদ্দ কমেছে ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কমেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ, ২ হাজার ৩ কোটি টাকা। আর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরাদ্দ কমেছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৮ কোটি ও ১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৬ হাজার ১৭৬ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। ফলে বিভাগটির বরাদ্দ কমছে ১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ৪ হাজার ৫০১ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ কমছে ২ হাজার ৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য নতুন অর্থবছরে ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ে ৮৭৪ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয়ে ৮ হাজার ২০৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। ফলে বরাদ্দ কমছে ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সেতু বিভাগের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১০ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২২ কোটি টাকা। ফলে বিভাগটির বরাদ্দ কমছে ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ বিভাগের বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
ঢাকা-চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব কমছে: প্রস্তাবিত বাজেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দূরত্ব কমাতে নতুন কর্ডলাইন নির্মাণ করা হবে। নতুন কর্ডলাইন নির্মাণ হলে এই রুটের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে এবং ট্রেন যাত্রার সময় ৫ ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নেমে আসবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ, রাজধানীকে দেশের সব জেলা ও প্রধান শহরের সঙ্গে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, বন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ও আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ উন্নয়ন করা হচ্ছে।
