ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ ও সচিব প্রফেসর সফিউদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি, নিয়োগ বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা সচিব ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর এমন অভিযোগ করেছেন আব্দুল বাছেদ নামের একজন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বোর্ডের আর্থিক খাতে অনিয়ম শুরু হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খাতা ক্রয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার অনিয়ম অডিটে ধরা পড়ে।

এ ছাড়া স্কুল অনুমোদন, টিসি বাণিজ্য ও কমিটি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষামন্ত্রীর ময়মনসিংহে আগমনে মতবিনিময় সভার খরচ ও মন্ত্রীকে উপহার দেয়ার নামে ১৬ লাখ টাকার ভুয়া বিল তৈরি করে আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি বোর্ডের প্রায় ৫ কোটি টাকা বেসরকারি একটি ব্যাংকে এফডিআর করে কমিশন নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। আরও উল্লেখ করেন, বোর্ডের স্থায়ীভাবে জমি অধিগ্রহণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সরকার পূর্বেই বোর্ডের জন্য নদীর ওপারে ৫ একর জমি একোয়ার করে দিলেও, মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়ে নতুন করে জমি কেনার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বিদায়ী চেয়ারম্যান ও সচিব মিলে বোর্ডে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কামাল হাসান, ক্রীড়া অফিসার আব্দুল হক, উপ-সচিব শাহাদাত উল্লাহ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু সায়েম মোহাম্মদ হাসান, সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ও উপ-কলেজ পরিদর্শক জামিল সরকারের নাম উঠে আসে। অর্থের বিনিময়ে দুইজন লেবারকে তৃতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ এবং দুর্নীতির সংবাদ বন্ধ করতে কতিপয় সাংবাদিকদের ঘুষ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা, এসিআর নম্বর কমিয়ে দেয়া ও চাকরিচ্যুতির হুমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর জন্য বোর্ডের গাড়ি ব্যবহার এবং স্ত্রী-ভাইয়ের বোর্ডের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আছে। অভিযুক্ত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সদ্য সাবেক সচিব প্রফেসর সফিউদ্দিন শেখ বলেন, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা, এর চাইতে বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না। বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে অনেক কিছুই করতে হয়। এখন আমি অবসরে চলে আসছি আগে আসতেন কথা বলতাম। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আকতারুজ্জামান বলেন, আমি অল্প কয়েকদিন দায়িত্বে ছিলাম, আজকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবো। সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে এই মুহূর্তে আপনাকে কিছু বলতে পারছি না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন