জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের ঘটনায় আলোচনায় আসা বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মণকে উদ্ধার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে বকশীগঞ্জ থানা থেকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সামনে নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাকে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মণ। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের নাগরিক। গত প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও তার পরিবার জানায়, দুই মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ষষ্টি চন্দ্র বর্মণ। কামালপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় থাকা ওই বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিজিবি’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। বৃদ্ধকে থানায় আনার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তারা তাকে শনাক্ত করেন। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানায় পুলিশ কর্মকর্তা।
তার ছোট ভাই ভবানি বর্মণ বলেন, দুই মাস ধরে ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। আমরা খুব চিন্তায় ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু কোথাও সন্ধান মেলেনি। অবশেষে সীমান্তে আটকে থাকার ভিডিও দেখে তাকে শনাক্ত করতে পারি। ভাইকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি। যারা তাকে উদ্ধার ও আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন, জামালপুর ৩৫ বিজিবি’র ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেনসহ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মণের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
