ভাইয়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে উইলিয়ামস

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ভাইয়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে উইলিয়ামস

ফন্ট সাইজ:


২০১০ সালে ঘরের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা লড়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে। এবারের বিশ্বকাপের য়ার পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। এই ঘটনাকে একবিন্দুতে এনেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস। ২০১০ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই মাস আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ভাই মারভিনকে হারান ১৮ বছর বয়সী রনওয়েন। ভাইয়ের শোকে কাতর হয়ে পড়েন তিনি। তবে মাঠ ছাড়েননি, বরং সেই কষ্টকেই শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। উইলিয়ামস বলেন, ‘আমার ভাই আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। এখন যখন ভাবি, আমি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেবো, গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়।’
২০২১ সালে বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রোস যখন দায়িত্ব নেন, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলের অবস্থা নাজুক ছিল। দর্শকরা মাঠবিমুখ, খেলোয়াড়দের মনে জয়ের আত্মবিশ্বাসটুকুও ছিল না। অভিজ্ঞ এই কোচ এসেই উইলিয়ামসকে তুলে দেন নেতৃত্বের ভার। ব্রোসের অধীনে দলটির খোলনলচে বদলে গেছে। ২০২৩ আফকানে তৃতীয় স্থান অর্জন এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গ্রুপ সেরা হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়া—সবই সেই পরিবর্তনের সাক্ষ্য দেয়। উইলিয়ামস বলেন, ‘দুই-তিন বছর আগে আমরা দর্শক খুঁজতাম, এখন পুরো দেশ আমাদের জন্য প্রার্থনা করে।’

নকআউট পর্বে ম্যাচ গড়ালে প্রতিপক্ষের জন্য এখন আতঙ্কের নাম রনওয়েন উইলিয়ামস। ২০২৩ আফকানে কেপ ভার্দের বিপক্ষে পাঁচটির মধ্যে চারটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে তিনি বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে জিতেছেন ‘আফ্রিকান গোলকিপার অব দ্য ইয়ার’ খেতাব এবং মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যালন ডি’অরের ইয়াশিন অ্যাওয়ার্ডে। তার পেনাল্টি ঠেকানোর কৌশলে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সাহস। উইলিয়ামস বলেন, ‘পেনাল্টি মানে চাপ নয়, বরং গোলকিপারের জন্য নিজেকে উজ্জ্বল করার সেরা সুযোগ।’

বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গী মেক্সিকো, চেক রিপাবলিক আর দক্ষিণ কোরিয়া। ২০০২ ও ২০১০ সালে চার পয়েন্ট করেও গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি দলটি। তবে ৪৮ দলের এবারের বিশ্বকাপে বাফানা বাফানার লক্ষ্য একটাই—দীর্ঘদিনের গ্রুপ পর্বের গেরো খোলা। উইলিয়ামস বলেন, ‘আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য এখন নকআউট পর্বে পা রাখা।’

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে যখন রেফারি বাঁশি বাজাবেন, তখন গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকবেন কেবল এক গোলকিপার নন, বরং একজন যোদ্ধা। যার বুকে জ্বলছে ভাইয়ের দেয়া সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্নপূরণের আগুন। বাফানা বাফানার এই যাত্রা কি শেষ পর্যন্ত রূপকথার জন্ম দেবে? উত্তরের অপেক্ষায় পুরো দক্ষিণ আফ্রিকা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন