সেবা না পেয়ে বিপাকে গ্রাহকরা, সহজ ডট কমকে ঘিরে নানা বিতর্ক

সেবা না পেয়ে বিপাকে গ্রাহকরা, সহজ ডট কমকে ঘিরে নানা বিতর্ক

ফন্ট সাইজ:

অনলাইন টিকিটিং সার্ভিস সহজ ডট কমের প্রতারণায় চরম দুর্ভোগে পড়েছিলো ঈদুল আযহার ছুটিতে বাড়িতে যাওয়া অসংখ্য মানুষ। যা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে- অনলাইনে ই-টিকিটিং সিস্টেমের আড়ালে ডিজিটাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অবৈধ উপায়ে লক্ষ গ্রাহকের অর্থ লুটে নিয়েছে সহজ-সিনেসিস’ জয়েন্ট ভেঞ্চার এই প্রতিষ্ঠানটি। আর এই টিকিট কালোবাজারির দায়ে খোদ ‘সহজ’-এর কর্মীরাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বেশ কয়েকবার আটক হয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, গত কোরবানি ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় অনেকেই অনলাইনে অগ্রিম টিকিট কিনেছেন সহজ ডট কম থেকে। অনলাইনে টাকা কেটে নেয়ার পরও বাস কাউন্টারে গেলে- কাউন্টার থেকে বলা হয়- পেমেন্ট হয়নি। আর এ নিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন অনেকে। সাইফুল নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, সহজ ডট কম থেকে ঢাকা টু বগুড়া-নওগাঁগামী ব্লু-লাইন এক্সপ্রেসের বাসের টিকিট কেটে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ঈদের বাড়ি যাওয়ার সময় গত ১৯ মার্চ সকাল ৯টার নির্ধারিত বাসের টিকিট পাঁচদিন আগেই কেটে রাখি আমি। ঠিক বাসে উঠার আধঘণ্টা আগে সকাল সাড়ে আটটায় সেই টিকিট বাতিল হয়েছে বলে আমাকে মেসেজ পাঠায় সহজ ডট কম। আমার মতো অনেক যাত্রীর সঙ্গেই এটা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা কেউই আর ভ্রমণ করতে পারিনি। আর এই সমস্যা এবারই প্রথম নয়, আমি জানতে পারলাম এর আগেও একাধিকবার ট্রেন ও বাসের অনলাইন টিকিট নিয়ে সহজ ডট কমের বিরুদ্ধে এমন শত শত অভিযোগ রয়েছে। তাই কোনো সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ যাত্রীদের যেন জিম্মি থাকতে না এই জন্য স্বচ্ছ এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত একটি টিকিটিং ব্যবস্থা চালুরও আবেদন জানান তিনি। কবীর নামে আরো এক যাত্রী ঠিক একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন সহজ ডট কম থেকে টিকিট কেটে। তিনি বলেন, সহজ ডট কম থেকে গত ১৮ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার দুটি টিকিট কেটেছিলেন তিনি। ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় তাকে ব্লু লাইন এক্সপ্রেসের ম্যানেজার পরিচয়ে একজন ফোন দিয়ে জানান, তার বাসের সময় পরিবর্তন হয়েছে। তার বাসটি ১৯ মার্চ সকাল ৭টায় ছাড়বে। পরে তিনি সকাল ৭টায় এসে দেখেন, বাসের কাউন্টারের সামনে অসংখ্য যাত্রী। রাত ১২টা থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর ট্রিপ শিডিউল ছিল। কিন্তু কোনো ট্রিপের গাড়িই ছাড়েনি। যারা সহজ ডট কম থেকে টিকিট কিনেছিলেন তাদের প্রত্যেকের যাত্রা বাতিলের মেসেজ এসেছে ট্রিপের নির্ধারিত সময়ের আধঘণ্টা আগে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহজ ডট কম এর এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন সহজ ডট কম থেকে ২ লাখ থেকে ৩ লাখ গ্রাহক টিকিট কিনেন অনলাইনে। ঈদ সহ বিভিন্ন ছুটির দিনে তা হয় দ্বিগুণ। যদিও রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহজ ডট কমের নিজস্ব সার্ভারে টিকিট বিক্রয় তথ্য সরকারি খাতায় দেখানো হয় আরো কম। বিষয়টি তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। অভিযোগ আছে, সিনেসিস আইটিসহ এই জেভি-ভুক্ত প্রতিষ্ঠান সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের আপন ছোট ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান। সেই সুবাদে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলের বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট এবং সহযোগিতায় গড়ে উঠেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সিনেসিস আইটিসহ এই জেভি-ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবে রেলওয়ের মতো সংবেদনশীল খাতের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ দেয়া হয়েছিল।
তবে গ্রাহকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহজ ডট কমের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং রেল বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, রেলওয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম হওয়া উচিত, কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগীদের ব্যাবসার জায়গা রেলওয়ে হওয়া উচিত নয়। সকল ডিজিটাল সিন্ডিকেট ভেঙে রেলওয়ে জনগণের সহজলভ্য ও নিরাপদ যাতায়াত মাধ্যম করতে হবে তা না পারলে রেলওয়ের প্রতি জনমনে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হবে না।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন