বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতাবেন শাকিরা-নোরা ফাতেহিরা

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতাবেন শাকিরা-নোরা ফাতেহিরা

ফন্ট সাইজ:

এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশেই হবে পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন পপ তারকা শাকিরা । প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহিকে দেখা যাবে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে লস অ্যানজেলেস স্টেডিয়ামে। এতে থাকবে বৃহৎ ভিজ্যুয়াল শো এবং কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমার মতো প্রমুখ শিল্পীদের পারফরম্যান্স।

৩৯ দিনের টুর্নামেন্ট
কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ১৬ দল বেড়ে এবার মোট ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে ট্রফির লড়াইয়ে। বিশাল এ টুর্নামেন্টে মোট ১০৪ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের বিশ্বকাপে ১২ গ্রুপের প্রতিটিতে থাকবে চার দল। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুই দল এবং আটটি সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল জায়গা করে নেবে নকআউট পর্বে। এরপর রাউন্ড অব সিক্সটিন, কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল হয়ে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ৩৯ দিন পর পর্দা নামবে এবারের আসর। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৩২ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়।

আয়োজক ও ভেন্যু
উত্তর আমেরিকার তিন দেশÑযুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা এবার বিশ্বকাপের আয়োজক। ১৬ শহরে হবে বিশ্ব ফুটবল এই মহাযজ্ঞ। ফুটবল ভক্তদের স্বাগত জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ স্টেডিয়াম ছাড়াও মেক্সিকোর ৩ এবং কানাডার ২ ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৭৮ ম্যাচ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকো ও কানাডা সমান ১৩ ম্যাচ করে আয়োজন করবে। রাতে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে গ্রুপ পর্বের খেলা। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও এই দুই দল উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নিয়েছিল। জোহেনাসবার্গে হওয়া ঐ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ১৯শে জুলাই ৮২,৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে লেখা হবে শিরোপার ভাগ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজক তিন দেশে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শুরু হবে সংশ্লিষ্ট আয়োজক দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। তিনটি অনুষ্ঠান আলাদা হলেও এগুলো একটি অভিন্ন থিমের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। যেখানে ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে একত্রিত করার বার্তা তুলে ধরা হবে। প্রযোজক হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন মার্কো বালি। তিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। কানাডা ‘কালচারাল মোজাইক’ বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, মেক্সিকো ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প ও যুক্তরাষ্ট্র ‘ঝলমলে, উজ্জ্বল’ কাপ থিম তুলে ধরবে।

সময় ও স্থানভিত্তিক আয়োজন
মেক্সিকো সিটি (১১ই জুন): মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে স্বদেশীয় সংস্কৃতি, আধুনিক লোকশিল্প এবং ‘পাপেল পিকাডো’ প্রদর্শিত হবে। এতে শাকিরা, জে বালভিন, মানা, লিলা ডাউনসসহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক সংগীতশিল্পী অংশ নেবেন।
টরন্টো (১২ই জুন): কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দেশটির বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক মিশ্রণ তুলে ধরা হবে। এতে পারফর্ম করবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজস, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয়সহ অনেকে। এটি কানাডার জন্য ঘরের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।

লস অ্যানজেলেস (১২ই জুন): যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। এতে থাকবে বৃহৎ ভিজ্যুয়াল শো এবং কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমার মতো প্রমুখ শিল্পীদের পারফরম্যান্স। প্রতিটি অনুষ্ঠানের পর মাঠে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ অনুষ্ঠান এবং আনুষ্ঠানিক কিক-অফ প্রোটোকল সম্পন্ন হবে। মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠান প্রায় ১৩ মিনিট করে চলবে।

প্রাইজমানি
ভেন্যু কিংবা দলের সংখ্যার দিক থেকেই অনন্য নয়, প্রাইজমানির দিক থেকেও এবারের আসর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত এপ্রিলের শেষভাগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রাইজমানির বাজেট কাতার বিশ্বকাপের থেকে ১৫% বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য ফিফার মোট বরাদ্দ এখন ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকার সমান! ফুটবলের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ বাজেট। কাতার বিশ্বকাপে যেখানে মোট প্রাইজমানি ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার, এবার মূল প্রাইজমানি হিসেবে দলগুলোর মাঝে বণ্টন করা হবে ৭০৩ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলের পকেটে ঢুকবে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি মার্কিন ডলার! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১১ কোটি টাকা। রানার্সআপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার বা ৪০৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল ২৯ মিলিয়ন ডলার বা ৩৫৪ কোটি টাকা এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দল ২৭ মিলিয়ন ডলার বা ৩৩০ কোটি ১২ লাখ টাকা পাবেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পায় ৪২ মিলিয়ন বা ৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। রানার্সআপ ফ্রান্স পায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থান অর্জন করা ক্রোয়েশিয়া পায় ২৭ মিলিয়ন ডলার । যা বাংলাদেশি প্রায় ৩৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সমান। চতুর্থ হওয়া মরক্কো পায় ২৫ মিলিয়ন ডলার বা ৩০৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। শুধু শীর্ষ দলগুলোই নয়, অন্য দলগুলোর জন্যও থাকছে মোটা অঙ্কের পুরস্কার। ‘রাউন্ড অব ৩২’ এ পৌঁছানো প্রতিটি দল পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা)। ‘রাউন্ড অব ১৬’ এ যাওয়া প্রতিটি দল পাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার করে। আর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়া দল পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮১ কোটি টাকা)। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়া প্রতিটি দল অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। পারফরম্যান্সের বাইরেও দলগুলোর জন্য আর্থিক সুবিধা রেখেছে ফিফা। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার জন্য প্রতিটি দেশ ১০ মিলিয়ন ডলার বা ১২২ কোটি টাকার ‘কোয়ালিফিকেশন বোনাস’ পাচ্ছে। পাশাপাশি আড়াই মিলিয়ন ডলারের ‘অংশগ্রহণ ফি’ দেয়া হবে।



পুরস্কার
চ্যাম্পিয়ন: ৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬১১ কোটি টাকা)
রানার্সআপ: ৩৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০৩ কোটি টাকা)
তৃতীয় স্থান: ২৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৫৪ কোটি টাকা)
চতুর্থ স্থান: ২৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা)
কোয়ার্টার ফাইনাল: ১৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৩২ কোটি টাকা)
রাউন্ড অব ১৬: ১৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা)
রাউন্ড অব ৩২: ১১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা)
গ্রুপ পর্ব: ১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২২ কোটি টাকা

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন