আকাশচুম্বী দামের মাশুল অবিক্রীত টিকিট নিয়ে বিপাকে ফিফা

ফন্ট সাইজ:

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কয়েক মাস আগে জোর গলায় এবারের বিশ্বকাপের টিকিট সোল্ডআউট হওয়ার ঘোষণা দেন। টুর্নামেন্ট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ফিফার অফিসিয়াল পোর্টাল এবং বিভিন্ন থার্ড পার্টি রিসেল অ্যাপে এখনো প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টিকিট অবিক্রীত রয়েছে। এমন প্রতিবেদন ছেপেছে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’।
যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফিফার অফিশিয়াল সাইট ছাড়াও টিকিটমাস্টার ও সিটগিকের মতো নামী প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখনও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। দ্য ডেইলি বিস্ট এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চড়া দামে টিকিট কিনে রাখা কালোবাজারিরা লোকসান এড়াতে কেনা দামের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ ছাড় দিয়েও টিকিট বিক্রি করতে পারছে না। টিকিট অবিক্রীত থাকার পেছনের কারণ হিসেবে ফিফার মাত্রাতিরিক্ত লোভ এবং টিকিটের আকাশচুম্বী দামকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, ফুটবল ইতিহাসের যেকোনো ফিফা টুর্নামেন্টের চেয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ। আমেরিকার মাটিতে তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর জন্যও সাধারণ দর্শককে সর্বনিম্ন ১৪০ ডলার (প্রায় ১৬ হাজার ৪০০ টাকা) গুনতে হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে আগামী ১৩ই জুন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের সাধারণ গ্যালারির সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে রেকর্ড ২ হাজার ৭৩৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা)! যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের চেয়েও অনেক বেশি। এমনকি এই ম্যাচের সাধারণ ক্যাটাগরির সর্বনিম্ন টিকিটের দামই ১ হাজার ডলারের (১ লাখ ১৭ হাজার টাকার বেশি) ওপরে। যৌথ আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে টিকিট বিক্রির গতি সবচেয়ে কম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতে।

বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচের ৪ হাজারেরও বেশি টিকিট পোর্টালে এখনও অবিক্রীত। মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত এই ম্যাচের মূল কোটার ১৩২টি সাধারণ টিকিট কাটেননি দর্শক। একই দিনে টরন্টোতে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচেরও ২২৬টি নিয়মিত টিকিট অবিক্রীত। তিন আয়োজক দেশের মধ্যে একমাত্র মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচটির (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে) সব টিকিট পুরোপুরি বিক্রি হয়েছে। টিকিটের এই গলাকাটা দাম নিয়ে ফিফার সমালোচনা করেছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই মাঠে থাকতে পছন্দ করতাম, কিন্তু সত্যি বলতে, টিকিট পেতে আমিও এত টাকা দিতাম না।’ ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির স্লোন স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের সিনিয়র লেকচারার বেন শিল্ডস বলেন, ‘ফিফা এখন বড় জুয়া খেলছে। তাদের আশা, একবার মাঠে যখন খেলা শুরু হয়ে যাবে এবং বিশ্বসেরা তারকারা লড়বেন, তখন ব্যবসার এই বিতর্ক আড়ালে চলে যাবে এবং মাঠের রোমাঞ্চই মুখ্য হবে।’ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া ইভেন্টে গ্যালারির বড় অংশ ফাঁকা থাকলে তা ফিফার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন