‘জাতীয় নিরাপত্তা শঙ্কা’য় সোমালি রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা

‘জাতীয় নিরাপত্তা শঙ্কা’য় সোমালি রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা

ফন্ট সাইজ:

একদিন পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। বিশ্বজুড়ে যখন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী মেতে উঠেছেন গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের উন্মাদনায়, ঠিক তখনই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নজিরবিহীন ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত অধ্যায়। ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ’ তকমা দিয়ে আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবল রেফারি ওমর আব্দুল কাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়নি সে দেশের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।

ট্রাম্প প্রশাসনের অত্যন্ত কঠোর ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতির বলি হয়ে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয় আরতানকে। ইস্তাম্বুল থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সিবিপির নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আরতানের বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন দেশের সুরক্ষায় কোনো প্রকার আপস করবে না, ফুল স্টপ।’ এর সপক্ষে মার্কিন বর্ডার প্রোটেকশন কমিশনার রডনি স্কট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। আপনি জীবিকার জন্য কী করেন, তা আমাদের বিবেচ্য নয়। কোনো দেশের নাগরিক যদি প্রবেশাধিকারের যোগ্যতা পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে কেবল ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার খাতিরে আমরা কাউকে দেশের ভেতরে ঢুকতে দেবো না।’

এদিকে বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রশাসনের এমন আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে সোমালি সরকার ও সোমালি ফুটবল ফেডারেশন (এসএফএফ)। সোমালিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলে, ‘আরতানের এই আন্তর্জাতিক অর্জন ছিল সমগ্র সোমালি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক। বছরের পর বছর সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তিনি এই যোগ্যতা অর্জন করেন। কূটনৈতিক স্তরে বারবার চেষ্টা করেও মার্কিন অনমনীয়তার কারণে এর কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।’

অন্যদিকে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অবশ্য এই ভূ-রাজনৈতিক বিতর্কে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্বাগতিক দেশের অভিবাসন ও ভিসা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

‘ভাগ্যের লিখন’ বলে মেনে নিচ্ছেন আরতান

স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বুকে নিয়ে গতকাল ইস্তাম্বুল হয়ে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর আদেন আব্দুলে ওসমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান আরতান। সেখানে তাকে এক আবেগঘন পরিবেশে বরণ করে নেন দেশটির ক্রীড়ানুরাগী ও সাধারণ মানুষ। তবে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খাওয়ার পরও সাংবাদিকদের সামনে অনন্য এক সংযম, দেশপ্রেম ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন ২০২৫ সালের আফ্রিকার এই সেরা রেফারি।

বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে তা ঘটে গেছে এবং আমি এটিকে ভাগ্যের লিখন বলেই মেনে নিয়েছি। তবে আমি ফিফা এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (ক্যাফ) প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ তারা শেষ পর্যন্ত আমার পাশে ছিল এবং আমাকে সমর্থন দিয়েছে।’ তরুণদের প্রতি আস্থার ডাক দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী আরতান আরও বলেন, ‘আজ আমি আমার নিজ দেশে ফিরে এসেছি এবং এর চেয়ে উত্তম কোনো জায়গা আমার জন্য হতে পারে না। আমি আমার দেশের তরুণ সমাজের প্রতি আকুল আবেদন জানাতে চাই-তোমরা কোনো অবস্থাতেই দেশের ওপর থেকে আস্থা ও আশা হারিও না। পরিস্থিতি ভালো হোক কিংবা মন্দ, সোমালিয়া আমাদেরই দেশ এবং আমাদেরই থাকবে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন