অবসরে যাওয়া নাকচ করলেন হাসিনা

অবসরে যাওয়া নাকচ করলেন হাসিনা

ফন্ট সাইজ:

নয়াদিল্লি থেকে ‘এই সময়’-কে দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন ছেড়ে আসা, ইস্তফা না-দেয়ার কারণ থেকে বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন, নিজের ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব বিষয়েই খোলামেলা সবিস্তার কথা বলেছেন শেখ মুজিবের কন্যা। আজ তার প্রথম পর্ব।

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পরে রাজনীতি থেকে অবসরের কথাই একটা সময়ে ভেবেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এখন সেই ভাবনা খারিজ। দেশের ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে’ সেই চিন্তা সরিয়ে রেখে ‘নিজের দেশের মানুষের পাশে থাকা’র সিদ্ধান্তই নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বললেন, ‘আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৮১–তে আমি যখন সব হারিয়ে দেশে ফিরেছিলাম, তখন আওয়ামী লীগের কর্মীরাই ছিলেন আমার পরিবার। আজ সেই নেতা–কর্মীরা নির্যাতিত, আমার দেশের জনগণের জীবন আজ বিপর্যস্ত। আমি কীভাবে তাদের ছেড়ে বিশ্রামে যাই?’

হাসিনার এই ‘বিশ্রামে’ যাওয়ার জল্পনা জোরালো হয়েছিল তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি বক্তব্যের ভিত্তিতে। সেই সূত্রেই তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘আপনি দিল্লি আসার পরে আপনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। আপনি কি এখনও সেই সিদ্ধান্তে অনড়? সে ক্ষেত্রে দল ও দেশের নেতৃত্ব আপনি কার বা কাদের হাতে ছেড়ে যেতে চান?’ বিস্তারিত লিখিত উত্তরে আওয়ামী সভানেত্রী বলেন, ‘জয়ের বক্তব্য আমার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ সারাজীবন একই দায়িত্বে থাকে না। আমিও বহুবার বলেছি, নতুন নেতৃত্ব আসুক, তরুণেরা দায়িত্ব নিক। আওয়ামী লীগের বিগত দুই কাউন্সিলেও আমি নতুন নেতৃত্বের কথা বলেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই।’

তা হলে এই ভাবনার বদল কেন?

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। গণতন্ত্র আক্রান্ত। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করার আইন করা হয়েছে। আমার নেতা-কর্মীরা কারাগারে। অনেকে ঘরছাড়া। সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে রয়েছেন। নিরীহ শিশুরা টিকার অভাবে মারা যাচ্ছে, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে। রাষ্ট্রকে ১৯৭১-এর পথ থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি, আমি বিশ্রামে যাচ্ছি?’ মুজিব–কন্যার সংযোজন, ‘আমি ক্ষমতা চাই না। কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না।’
হাসিনার ঘোষণা, ‘বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা, তাদের উন্নত জীবনমান ও অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন, সকলের সমানাধিকার এবং আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আগামী দিনের সাফল্য নিশ্চিত করে, তার পরেই আমি অবসর নেব।’ পরবর্তী নেতৃত্ব সেক্ষেত্রে কার হাতে যাবে? হাসিনার জবাব, ‘নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, সেটি কোনও ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার নয়। আওয়ামী লীগ কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়, একটি গণতান্ত্রিক দল। কাউন্সিল (সম্মেলন)-এর মাধ্যমে, কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে, যোগ্যতা, ত্যাগ, সাহস ও আদর্শিক দৃঢ়তার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।’

আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের পদাধিকারীদের পরিবর্তন করে নতুনদের দায়িত্ব বণ্টনের কথা দলের অনেকে বলছেন। অসুস্থ ও অশক্ত নেতাদের সরিয়ে তরুণদের নেতৃত্বে দলকে সংগঠিত করার কোনও পরিকল্পনা কি আপনি রূপায়ণ করতে চলেছেন? সেটা কেমন হতে পারে?’ শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দলীয় পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও অপরিহার্য প্রক্রিয়া। আমরা এই মুহূর্তে একটা প্রাকৃতিক শুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যারা আদর্শের জন্য এই দলে ছিলেন, তারা আজকের দুর্দিনে আরও দৃঢ় ভাবে দলের পাশে আছেন। আর যারা ব্যক্তিগত সুবিধা ও ক্ষমতার আশায় ছিলেন, তারা ইতিমধ্যে ভোল পাল্টে ফেলেছেন বা চুপ করে গিয়েছেন। এটা দলকে দুর্বল করেনি, বরং খাঁটি করেছে।’

তার ব্যাখ্যা, ‘নেতৃত্ব কোনও অলঙ্কার নয়। নেতৃত্ব একটি পবিত্র দায়িত্ব। যারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, যারা কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন না, যারা কঠিন সময়ে সংগঠনকে ধরে রাখতে পারবেন না, তাদের বিষয়ে দলীয় কাঠামোর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের অনেক প্রবীণ নেতা সারা জীবন দলকে দিয়েছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাদের অবদান কখনও অস্বীকার করা যাবে না। তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পদ।’

আপাতত নেতৃত্বে বড়সড় বদলের সম্ভাবনা নেই ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নতুন কাউন্সিল (সম্মেলন)-এর মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করা হবে। নতুন প্রজন্মের মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। সেই পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে।’ তার কথায়, ‘তরুণ নেতৃত্বের বিষয়ে আমি সর্বদাই উৎসাহী। আমাদের অনেক তরুণ নেতারা আজ নিজ নিজ অবস্থান থেকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন মোকাবিলা করে দৃঢ়তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের পতাকা ধরে রেখেছেন। এঁরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।’

শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, মাথা উঁচু করে খুব দ্রুত আপনি বাংলাদেশের মাটিতে ফিরবেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আপনার ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীদের প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতি শুরু করাটা কতটা বাস্তবসম্মত?’ জবাবে হাসিনা বলেছেন, ‘পাকিস্তানি শাসকরা পারেনি, সামরিক শাসকেরা পারেনি, খুনিরা পারেনি, ষড়যন্ত্রকারীরা পারেনি, আজকের বিএনপি সরকারও আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারবে না। আমার প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত বিষয় তো নয়। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত।’ তার সংযোজন, ‘জনগণ বুঝতে পেরেছেন আওয়ামী লীগই তাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। এই জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমি ফিরব। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে ফিরব, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।’

ট্যাগসমূহ:

Mohammad Zahirul Islam

১ মাস আগে

এই দেশের জন‍্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দরকার আছে

টি এম নাজমুল হুদা

১ মাস আগে

ভালো করে পড়লাম। তার প্রতিটা স্টেটমেন্ট স্ববিরোধী। উনি সত্যিই বিনোদনে পরিনত হয়েছেন। আমরা অনেকেই এটা উপভোগ করি। যেমন উনি নাকি, গনতন্ত্র পুনঃউদ্ধারের জন্য ফিরবেন ।

Mohammad salah Uddin

১ মাস আগে

একজন খুনির সাক্ষাৎকার নেওয়া
খুনিকে উৎসাহিত করা।

নজরুল ইসলাম

১ মাস আগে

তার অনুতপ্ত হওয়া উচিৎ

SHINGRAPUR

১ মাস আগে

তার লোভের কোনো শেষ নেই, তাই সে স্বেচ্ছায় কখনোই অবসরে যাবে না। রূপকথা বা গল্পে এই ধরনের লোভী ডাইনী চরিত্রগুলো সাধারণত কোনো বড় বিপর্যয়, পরাজয় বা তাদের জাদুকরী ক্ষমতার পতন না ঘটা পর্যন্ত নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চায়।

Zakiul Islam

১ মাস আগে

রক্ত নেয়ার নেশা এখনো শেষ হয়নি । আরো রক্ত চাই , রক্ত আমার চাই , ডাইনীর রক্তের নেশা শেষ হয় নি । এত দরদ কর্মীদের জন্য পালিয়ে গেলেন কেন ? বিনা ভোটের গণতন্ত্র কায়েম করবেন আবার এসে ? আনাস, সাঈদের রক্ত বৃথা যাবে না। লক্ষ, কোটি আনাস, সাঈদ , মুগ্ধ জেগে আছে ।

নীলিমা

১ মাস আগে

হাসিনার সেই একই গৎবাঁধা কথা, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। সব জনগণের জন্য। আহা!

Monir Ahamed

১ মাস আগে

পতন আর মৃত্যু একই কথা! যাদের পতন হয় তারা মরে যায়! আর মৃতরা কখনো ফেরত আসে না! এই হাছিনা খুনী, গণহত্যাকারী, বাংলাদেশের গনতন্ত্র হত্যাকারী! জঘন্য এই নারীর উস্কানিমূলক এসব বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার আইন করতে হবে।

Mohammad Harun Rashid

১ মাস আগে

এই দেশে শেখ হাসিনা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন! এখন গণতন্ত্র বিপন্ন! শেখ হাসিনাই গণতন্ত্রকে আবার সমুন্নত রাখতে পারবেন! (☺️)

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

১ মাস আগে

কুকুরের পেট ভরে লাঠির আঘাতে তার আগে নয়।

শেখ মুচি

১ মাস আগে

মিথ্যাবাদী, ক্ষমতালোভী, বেয়াদব, হিংসুক শেখ মুচির মেয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ও আলোচনা বিষয়ক যে কোন ধরনের সংবাদ কিংনা টকশো করাও এক ধরনের জাতির সাথে প্রতারণা। সদ্য নির্মম গণহত্যা ও লুঠপাটের কবল থেকে মুক্ত হওয়া জাতিকে যারা আবারো অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায় তারা জাতির জাতীয় শত্রু।

সুমন

১ মাস আগে

খারাপ মহিলা তুই

আব্দুল কাইয়ূম সেলিম

১ মাস আগে

শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক, তিনি যা বলেন তাই করেন। বাংলাদেশে সামগ্রিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যদি একটা গণভোটের আয়োজন করা হয় তাইলে শেখ হাসিনার পক্ষে ৯০% ভোট পড়বে। কারণ এখন সবার মুখে একই কথা "আমরা আগেই ভালো ছিলাম"।

নিশু

১ মাস আগে

সঠিক সিদ্ধান্ত

Monir Ahamed BNP

১ মাস আগে

পতন আর মৃত্যু একই কথা! যাদের পতন হয় তারা মরে যায়! আর মৃতরা কখনো ফেরত আসে না! এই হাছিনা খুনী, গণহত্যাকারী, বাংলাদেশের গনতন্ত্র হত্যাকারী! জঘন্য এই নারীর উস্কানিমূলক এসব বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার আইন করতে হবে।

SHINGRAPUR

১ মাস আগে

বিরোধী দলগুলোর দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব এবং ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের কারণে জনগণের একটি বিশাল অংশের মধ্যে তার প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারের পতন ঘটে, যা দেশের মানুষের একটি বড় অংশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। শেখ হাসিনার পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার বিষয়টি অধিকাংশ বাংলাদেশিকে খুশি করবে কিনা, তা নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তার শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং বৈষম্যের কারণে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সে আওয়ামেলিগের সকল বিরোধীপক্ষকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করছে। রক্ত লাল চোখ মানুষ……..

Based

১ মাস আগে

এতো দায়িত্ববান তাহলে পালালেন কেন ?

Mahin

১ মাস আগে

লোভী ডাইনীটা অবসরে যাবে না, যাবে কবরে!

কবির

১ মাস আগে

সঠিক সিদ্ধান্ত.

আব্দুল্লাহ

১ মাস আগে

লোভেই মৃত্যু হবে তার।

সুমন

১ মাস আগে

ঠিক বলেছেন ভাই

এ এইচ ভুঁইয়া

১ মাস আগে

সঠিক সিদ্ধান্ত.

মন্তব্য করুন