গত দুই দশক ধরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিয়াল মাদ্রিদের মসনদে বসার পর এবারই প্রথম ভোটের লড়াইয়ে নামতে হয় ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ক্লাব সদস্যদের বিপুল সমর্থনে আবারও রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী এই ফুটবল সংগঠক। মোট ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্লাবের নেতৃত্ব দেয়ার ম্যান্ডেট পেয়েছেন তিনি।
ভালদেবেবাসে রোববার অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে পেরেজের প্যানেল ২১,৭৪১টি ভোট লাভ করে। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৭ বছর বয়সী তরুণ ব্যবসায়ী এনরিকে রিকেলমে ১১,৮১৪টি (৩৫%) ভোট পেয়ে পরাজিত হলেও, নিজেকে ভবিষ্যতের একটি শক্ত বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও, গত মে মাসে রিয়ালের ড্রেসিংরুমে ফেদে ভালভার্দে ও অরেলিয়েন চুয়ামেনির মধ্যকার অপ্রীতিকর ঘটনা এবং টানা দুই মৌসুম বড় কোনো ট্রফি না জেতার পর পেরেজ আকস্মিকভাবে নির্বাচনের ডাক দেন। শুরুতে এই নির্বাচনী লড়াই সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকলেও, শেষের দিকে তা জমে ওঠে রাজনৈতিক ও দলবদল সংক্রান্ত নানা প্রতিশ্রুতিতে।
রিকেলমে তার প্রচারণায় ইয়ুর্গেন ক্লপকে কোচ করা এবং ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আর্লিং ব্রুট হালান্দ ও রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবে পেরেজ তার প্যানেলে ফিরিয়ে এনেছেন জোসে মরিনহোকে। একই সঙ্গে ইব্রাহিমা কোনাতে ও ডেনজেল ডামফ্রিসের মতো তারকাদের চুক্তি নিশ্চিত করেছেন তিনি। এছাড়া আজ মঙ্গলবার ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে একজন বড় ‘গ্যালাক্টিকো’ সাইনিংয়ের চমকপ্রদ ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন পেরেজ। গুঞ্জন রটেছে, তিনি বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি তারকা মাইকেল ওলিসে।
বার্নাব্যুর নিকটবর্তী একটি হোটেলে বিজয় উল্লাসের সময় ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে আমরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছি। এটি এক অসাধারণ ফলাফল। আজ রিয়াল মাদ্রিদের জয় হয়েছে, আমরা বিশ্বকে গণতন্ত্রের উদাহরণ দেখিয়েছি। রিয়াল মাদ্রিদের ট্রফি জয়ের ধারা বজায় রাখতে আমরা কাজ করে যাব।’
২০০০ থেকে ২০০৬ এবং ২০০৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রিয়ালের দায়িত্বে থাকা পেরেজের অধীনে ক্লাবটি ৭টি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং ৭টি লা লিগা জিতেছে।
