আজাদ কাশ্মীরে বিক্ষোভে নিহত ২ বিক্ষোভকারী ও ৪ পুলিশ সদস্য

আজাদ কাশ্মীরে বিক্ষোভে নিহত ২ বিক্ষোভকারী ও ৪ পুলিশ সদস্য

ফন্ট সাইজ:

নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সমর্থকদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জন। রোববার এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। দু’জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনলাইন ডনের খবরে বলা হয়, রোববার রাতে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) পুলিশের মহাপরিদর্শক লিয়াকত আলী মালিকের কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, রাওয়ালাকোটে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে (সিএমএইচ) বিক্ষোভকারীদের হামলার সময় চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নিহতদের আগ্নেয়াস্ত্র ও শটগানের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদ হিসেবে উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। অন্যদিকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকেও কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

পুরো অঞ্চলে মোবাইল ডাটা সেবা বন্ধ করে দেয়ায় আজাদ কাশ্মীর থেকে তথ্যপ্রবাহও সীমিত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাওয়ালাকোটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে তার পরিবার শনিবার জানাজা হবে বলে ঘোষণা দিলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মরদেহ আবার সিএমএইচে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং জানাজা রোববার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এদিকে শত শত মানুষ হাসপাতালের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সেখানে পৌঁছালে উত্তেজিত একদল বিক্ষোভকারী তাদের মুখোমুখি হয়। এরপর দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। নিহত ব্যক্তির পরিবার ঘোষণা দিয়েছে, জেএএসি’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জারি করা স্বরাষ্ট্র বিভাগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবে না। পরিবারের এক সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সূত্র জানায়, আমাদের ছেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। জেএএসি’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয়া প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে দাফন করব না।

এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডনকে বলেন, হাসপাতালের বাইরে চলমান অবস্থান কর্মসূচির কারণে রোগী, তাদের স্বজন এবং সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা মানেনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন