বিচার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিচার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামি শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একই ধরনের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দও এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার ‘ঘুরে দাঁড়ানোর’ পালা: প্রধানমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ফ্যাসিবাদী’ আমলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর ও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। যখন আমরা দেখি আমাদের সামনে এত বিশাল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, তখন আমাদের মনোবল আরও বৃদ্ধি পায়। গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা ইনশাআল্লাহ অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবো এবার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ অর্জন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে যেসব সাহসী মানুষ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে চাইলে আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে না পারলে আমি মনে করি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে। দেশে ‘কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জাতীয় উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি একটি সম্মিলিত যাত্রা।

এই যাত্রায় বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর সকলের সহযোগিতা আশা করে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে আমাদের যে অগ্রযাত্রা আমরা প্রত্যাশা করি সেই অগ্রযাত্রাকে কেউ ইনশাআল্লাহ রুদ্ধ করতে পারবে না। তিনি এমন একটি কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন, যেখানে শুধু সনদ দেবে না, দেশে দক্ষ মানবসম্পদও সৃষ্টি করবে, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করবে। শুধু চাকরিজীবী নয় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করবে, এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয় সামাজিক রূপান্তরেরও ভিত্তি নির্মাণ করবে। শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয় জাতীয় সমৃদ্ধিও ত্বরান্বিত করবে।

দেশের তরুণ সম্প্রদায়ের প্রতি আমার আহ্বান, নিজেদের যথাযোগ্যভাবে গড়ে তুলতে পারলে তোমরাই হবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের নির্মাতা। ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিখতে পারলে দেশে- বিদেশে কোথাও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সমস্যা হওয়ার কথা নয় ইনশাআল্লাহ।

সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুই হাজারের বেশি কলেজ থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এইসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০ লাখের মতো শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ইতিমধ্যে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন পর্যায়ক্রমিকভাবে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা নিরসন এবং শহর-গ্রামের আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর অবাধ প্রসার ও ব্যবহার বর্তমানে মানুষের জন্য নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘অটোমেশন এবং এআই-চালিত প্রযুক্তির কারণে হয়তো অনেক পুরনো পেশায় কর্মসংস্থান যেমন ঝুঁকির মুখে পড়েছে কিংবা অবলুপ্ত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ নতুন নতুন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়তো সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমানে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পাস করে বের হলেও অনেকের বেকার থাকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এর কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন, সর্বোচ্চ একাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জন করলেও ব্যবহারিক, প্রায়োগিক কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায়। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এর ফলে অনেক আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন, সরকারের এমন আশার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক ও গাছের চারা উপহার দেয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন