চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ জটে রমজানের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা

চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ জটে রমজানের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা

ফন্ট সাইজ:

স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি পণ্য আমদানি হয় রমজানে। এসব পণ্য পাইকারি বেচাকেনার মূল কেন্দ্র খাতুনগঞ্জ। খাতুনগঞ্জ ঘিরে এসব পণ্য বন্দরে আনা হলেও সেগুলো যথাসময়ে খালাস করতে পারেননি আমদানিকারকরা। বন্দরসীমায় বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এখনো ভাসছে ১১০টি জাহাজ। এর মধ্যে ভোগ্যপণ্য বোঝাই জাহাজ আছে অর্ধেক। এসব জাহাজে আছে চাল, ডাল, ছোলা, খেজুর, চিনি, ফলমূল, তেলসহ নানা ভোগ্যপণ্য। আগামী দু’দিনে আরও ১০টি জাহাজ নোঙর করবে বন্দরে। শবেবরাতের পর থেকে পরের ১৫ দিন রমজানের পণ্য বেচাকেনা হয় পাইকারি মোকামে। তবে টানা কর্মবিরতি ও নির্বাচনের ছুটির ফাঁদে পড়ে এবার সে সময়ে পণ্য বাজারজাত করতে পারেননি আমদানিকারকরা।

সূত্রমতে, সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার টিইইউ (২০ ফুট একক) কন্টেইনার খালাস হয় বন্দর থেকে। কিন্তু কর্মবিরতির প্রথম ছয় দিনে খালাস হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৮৬১ কন্টেইনার, গড়ে দিনে ১ হাজার ৪৭৬টি। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৯ দিনের মধ্যে তিনদিন ছিল অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, সে সময় একটি কন্টেইনারও খালাস হয়নি। নির্বাচন উপলক্ষে ১১ই ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা বন্দর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। যদিও খাদ্যপণ্য খালাসের অনুমতি ছিল, তবে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ ও শ্রমিক সংকটে সরবরাহ হার স্বাভাবিকের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে যায়। ভোটের দিন ও এর আগে-পরে তিন দিনে গড়ে মাত্র দেড় হাজার কন্টেইনার খালাস হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য বলছে, গত ১লা নভেম্বর থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। আমদানিকৃত ছোলার প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। গত বছর যেখানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৯২ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে পাইকারি বাজারে তা ৭৫ থেকে ৮২ টাকায় স্থিতিশীল। শুধু ছোলা নয়, ভোজ্য তেল, চিনি ও ডালের আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ডিসেম্বর থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে। চিনির আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার টনে। মসুর ডাল আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ এবং মটর ডাল ৮১ শতাংশ। খেজুরের আমদানি কিছুটা কমলেও হিমাগারে আগের বছরের মজুত থাকায় বড় সংকটের আশঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের চেয়ে চলতি বছর রমজানকে সামনে রেখে রেকর্ড পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১লা জুলাই থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ চিনি, ছোলা, ভোজ্য তেল, ডাল, মটর, খেঁজুর ও বিভিন্ন মসলা, শিশুখাদ্যসহ ১৭ ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে ২৯ হাজার ৭৭ কোটি টাকার। এর ওজন ছিল প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ টন। গতবছরের তুলনায় এ বছরের সাড়ে সাত মাসে ৩ লাখ ১৩ হাজার টন পণ্য বেশি আমদানি হয়েছে। টাকার অঙ্কে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৮শ’ কোটি টাকা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১১০টি পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে আছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক জাহাজে রয়েছে রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। চিনিবোঝাই জাহাজ আছে পাঁচটি, খাদ্যসামগ্রীর ২০টি এবং কন্টেইনারবাহী জাহাজ আছে ২৩টি। এসব জাহাজে রয়েছে খেজুর, ফলমূল, তেল, গম, ডালসহ ১০ ধরনের পণ্য। সময়মতো খালাস না হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। নির্বাচন উপলক্ষে ১১ই ফেব্রুয়ারি থেকে ৪৮ ঘণ্টা কার্যত স্থবির ছিল বন্দরের কার্যক্রম। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দিনে প্রায় ৫ হাজার কন্টেইনার খালাস হয়, কর্মবিরতির সময় তা নেমে আসে গড়ে ১ হাজার ৪৭৬টিতে। বর্তমানে জেটিতে কন্টেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭২৫টিÑযা স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সারওয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সংগঠনের তত্ত্বাবধানে ভোগ্যপণ্য খালাস হচ্ছে অন্তত ৪৫টি জাহাজে। বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজ তাদের পণ্য আলাদাভাবে খালাস করে। সব মিলিয়ে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে ভোগ্যপণ্যের জাহাজ আছে ৫৫ থেকে ৬০টি। এসব জাহাজের পণ্য খালাস শেষ হতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।

বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এম এ সালাম জানান, অন্তত আরও ১০ দিন লাগবে বন্দরে আটকে থাকা জাহাজের জট খুলতে। এর মধ্যে নতুন জাহাজ নোঙর করলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘রমজানের পণ্য দ্রুত খালাসে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

A H Khan

৫ মাস আগে

বন্দরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন এবং চাঁদাবাজ নেতাদের ছাটাই করুন। দেশ ও জনগণের স্বার্থে কঠোর হন।

মন্তব্য করুন