ধনী পুরুষদেরকে বিয়ে করার বিষয়ে নারীদের সতর্ক করেছেন ভারতের গুরগ্রাম ভিত্তিক ডেটিং অ্যাপ কোম্পানি ‘নট ডেটিং’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জসপ্রীত সিং। ভাইরাল হয়ে গেছে তার ওই পরামর্শ। এ বিষয়কে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, যশপ্রীত সিং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে নারীদেরকে সতর্ক করেন ধনী পুরুষকে বিয়ে করার বিষয়ে।
সিং তার পোস্টে বলেন, যেসব নারী খুব ধনী পুরুষকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন অনেক সময় ‘সোনালি খাঁচা’ হয়ে উঠতে পারে। তিনি লিখেছেন, স্বামী-স্ত্রীর আয়ের ব্যবধান যদি বেশি হয়, তাহলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে অসম হয়ে যায়। অর্থই সম্পর্কের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করে। বেশি আয়কারী ব্যক্তি সাধারণত সম্পর্কের নিয়ম তৈরি করে। তিনি আরও দাবি করেন, যদি একজন পুরুষ বছরে ১ কোটি রুপি আয় করেন এবং নারী ১০ লাখ রুপি আয় করেন, তাহলে ধীরে ধীরে মনে হতে পারে- ‘সবকিছু আমি করছি, তুমি কী দিচ্ছো?’
যশপ্রীত সিং বলেন, টাকার সঙ্গে ক্ষমতা আসে। আর সেই ক্ষমতা নির্ধারণ করে কে বেশি আপস করবে, কে নিজেকে ছোট করবে এবং কে মেনে নেবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, পুরুষদের সাধারণত বেশি বিকল্প থাকে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে তা কম। এটি তার মতে ‘বিয়ে নয়, একটি দর-কষাকষির সমস্যা।’
শেষে তিনি বলেন, আয়ের ব্যবধান যদি তিন গুণের বেশি হয়, তাহলে সেটি সম্পর্ক নয়, বরং ‘নির্ভরশীলতাকে বিয়ে বলে চালানো হয়।’
এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ব্যবহারকারীদের মধ্যে মতামত ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন- তাহলে কি বিয়ে এখন লেনদেন হয়ে গেছে? কেউ বলেন, শুধু আয় নয়, দুই পরিবারের সামাজিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকজন যশপ্রীত সিং’কে ‘অতিরিক্ত নেতিবাচক’ না হওয়ার পরামর্শ দেন। কেউ আবার যুক্তি দেন যে, সন্তান জন্মদান, লালন-পালন ও ঘরের কাজও নারীর বড় অবদান। অন্য একজন মন্তব্য করেন, পুরুষদের নারীর চেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকে। আবার কেউ বলেন, টাকা নৈতিকতা কিনতে পারে না। তাই অসম্মানজনক মনোভাব নিয়ে বিয়ে করা ঠিক নয়।
এই ঘটনাটি আবারও পুরোনো কিন্তু জটিল প্রশ্ন সামনে এনেছে। তাহলো- বিয়ে কি ভালোবাসার সম্পর্ক, নাকি অর্থনৈতিক চুক্তি? অর্থ ও ক্ষমতা কি সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে? আয়ের ব্যবধান কি সত্যিই সম্পর্ককে অসম করে তোলে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সমাজে আর্থিক স্বাধীনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের ‘পাওয়ার ডাইনামিকস’ আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফলে বিয়ে এখন কেবল আবেগ নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্যের বিষয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
