বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ভিসা বিতর্ক

বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ভিসা বিতর্ক

ফন্ট সাইজ:

ইরান অভিযোগ করেছে, তাদের জাতীয় ফুটবল দলের ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যাকরুম স্টাফদের যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস) ভিসা দেয়নি। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ইরানি খেলোয়াড়দের ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার বলেন, ইরানের সব খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক স্টাফদের ভিসা দেয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যেন এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ভুল পরিচয়ে সন্ত্রাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর চেষ্টা না করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর তুরস্কে থাকা ইরানি দূতাবাস অভিযোগ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ক্রীড়ায় রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হস্তক্ষেপ করছে।

তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের জাতীয় দলের বড় একটি অংশ, যার মধ্যে ম্যানেজমেন্ট, নির্বাহী স্টাফ এবং টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজাররা রয়েছেন তারা ভিসা পাননি। ইরানি রাষ্ট্র সংযুক্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রবেশে অনুমোদন দেয়া হয়নি। এর মধ্যে রয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান, তার ডেপুটি এবং একজন মিডিয়া পরিচালক। ইরান দল শনিবার তুরস্কে তাদের ট্রেনিং বেস থেকে যাত্রা শুরু করে মেক্সিকোর দিকে রওনা দেয়। সেখানে তারা পুরো টুর্নামেন্ট চলাকালে অবস্থান করবে। তাদের ২০ ঘণ্টার ফ্লাইট শেষে রোববার ভোরে পৌঁছানোর কথা। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মেক্সিকোতে জানিয়েছেন, ভিসার শর্ত অনুযায়ী খেলোয়াড়দের প্রতিটি ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে আবার একই দিনে বেরিয়ে যেতে হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে হোয়াইটওয়াশ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আপনি এখন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ইরানি দূতাবাসের কর্মকর্তারা ফিফা’কে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ১১ জুন শুরু হচ্ছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে। ইরান ২০২৫ সালের মার্চে তাদের যোগ্যতা অর্জন পর্বে শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টে জায়গা নিশ্চিত করে। এটা হয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর আগে। ইরান ঠিকঠাক ম্যাচগুলো খেলতে পারলে এটি হবে প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে আতিথেয়তা দেবে যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, পুরো আয়োজন জুড়ে সরকার একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার মাধ্যমে ১১টি হোস্ট সাইট নিরাপদ রাখবে। এর মধ্যে লস অ্যানজেলেসও রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানি দলের কোনো সদস্য যেন ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের সঙ্গে সম্পর্কিত না থাকে। তবে কিছু ইরানি খেলোয়াড় বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার অংশ হিসেবে ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন