বেতন ৬ হাজার রুপি, ব্যাংকে নগদ ২ কোটি, আছে বিলাসবহুল সম্পদ, দামী জমি

বেতন ৬ হাজার রুপি, ব্যাংকে নগদ ২ কোটি, আছে বিলাসবহুল সম্পদ, দামী জমি

ফন্ট সাইজ:

বৈকুণ্ঠ নাথ বেহেরা। একজন সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী। তার বেতন ৬০০০ রুপি। কিন্তু তিনি ২ কোটি রুপির সম্পদের মালিক। আয়ে বিশাল বৈষম্য ধরা পড়ার পর ওড়িশা ভিজিল্যান্স তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, ওই দুই কোটি রুপি নগদ পাওয়া গেছে ব্যাংকের লকারে। এই অর্থ যাদের নামে রাখা হয়েছে তারা তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আরও আছে আলিশান বিলাসবহুল সম্পদ, উচ্চ মূল্যের জমি ও আর্থিক বিভিন্ন সম্পদ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

কন্ধমাল জেলার বালিগুড়ার ইন্টিগ্রেটেড ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (আইটিডিএ) সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী বৈকুণ্ঠ নাথ বেহেরা। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা ব্যাংক লকার থেকে প্রায় ২ কোটি রুপি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। ভুবনেশ্বর, বালাসোর, যাজপুর এবং বালিগুড়া এলাকায় পরিচালিত এই তল্লাশিতে একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি, উচ্চমূল্যের জমি এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। অভিযান চলমান। বেহেরা তার পরিচিত আয়ের উৎসের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভুবনেশ্বরের বিশেষ ভিজিল্যান্স আদালত থেকে জারি করা পরোয়ানা বলে ওড়িশা ভিজিল্যান্স সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপ-পুলিশ সুপার, পরিদর্শক এবং সহায়ক কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বড় দল অংশ নেয়। তল্লাশি চালানো হয় ভুবনেশ্বরের চন্দ্রশেখরপুর, শৈলশ্রী বিহার, কানন বিহার, যাজপুর জেলার ধর্মশালা, বারিপদা, বালিগুড়ায় তার সরকারি বাসভবন এবং অফিস কক্ষে। অভিযানের সময় ভিজিল্যান্স কর্মকর্তারা প্রকৌশলী এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা পাঁচটি বহুতল ভবনের সন্ধান পান। এর মধ্যে রয়েছে ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহার এলাকায় প্রায় ১০,৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি চারতলা ভবন। তদন্তকারীরা ভুবনেশ্বর ও যাজপুর জেলায় আরও চারটি আবাসিক সম্পত্তিরও খোঁজ পেয়েছেন।

কর্মকর্তারা আরও ১৩টি জমি শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে ভুবনেশ্বরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাতটি প্লট এবং যাজপুর ও বারিপদায় আরও কয়েকটি জমি রয়েছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা ব্যাংক লকার থেকে প্রায় ২ কোটি রুপি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ ৬৬ হাজার রুপির বেশি নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। বর্তমানে স্বর্ণালঙ্কার, ব্যাংক আমানত, ডাকঘর সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা সম্পত্তি ও জমির বর্তমান বাজারমূল্যও যাচাই করছেন।

সরকারি নথি অনুযায়ী, বৈকুণ্ঠ নাথ বেহেরা ১৯৯৯ সালে একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তখন তার মাসিক বেতন ছিল প্রায় ৬ হাজার রুপি। পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রকৌশল দায়িত্বে কাজ করেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। এখন ভিজিল্যান্স কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, তার অর্জিত বলে অভিযোগ থাকা সম্পদগুলো তার বৈধ ও পরিচিত আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। বিলাসবহুল সম্পত্তি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানের জমি, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন আর্থিক বিনিয়োগকে ঘিরে এই তদন্ত ইতিমধ্যে চলতি বছরে ওড়িশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানে পরিণত হয়েছে। তল্লাশি ও সম্পদের মূল্যায়ন সম্পন্ন হলে সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন