চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পেয়েছেন। শুক্রবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা। লস অ্যানজেলেসে ইরানের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে এই ভিসা অনুমোদন দেয়া হলো।
মেক্সিকোতে ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুল ফজল পাসানদিদেহ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, দলের সদস্যরা তখনও মার্কিন ভিসা পাননি। তবে হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা জানান, রাতারাতি খেলোয়াড়দের ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল ফেডারেশনের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তবে আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি শুক্রবার জানিয়েছে, দলের কারিগরি ও প্রশাসনিক স্টাফদের কয়েকজন এখনও মার্কিন ভিসা পাননি।
সংস্থাটি কোনো সূত্র উল্লেখ না করে বলেছে, জাতীয় দলের কারিগরি ও নির্বাহী স্টাফদের কিছু সদস্যের ভিসা এখনও ইস্যু করা হয়নি এবং মার্কিন দূতাবাস এ পর্যন্ত তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিশ্বকাপকে একটি ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছে। দুই পক্ষই এই টুর্নামেন্টকে রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করছে বলে মনে হচ্ছে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এই প্রথম কোনো স্বাগতিক দেশ এমন একটি দেশের দলকে আতিথ্য দিচ্ছে, যার সঙ্গে তার যুদ্ধ চলছে।
ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দলের অবস্থান যতটা সম্ভব সীমিত রাখার ইচ্ছার কারণে তেহরান শেষ মুহূর্তে দলের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করে। দলটির রোববার ভোরে তিহুয়ানায় পৌঁছানোর কথা। ইরান ১৫ জুন লস অ্যানজেলেসে গ্রুপ জি-এর প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে। পরে সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।
রাষ্ট্রদূত পাসানদিদেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে তারা ইরান দলের অবস্থান নিজেদের ভূখণ্ডে চায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের বলেন, ইরান তাদের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে না। আইআরজিসি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি শক্তিশালী শাখা।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভিসা পাননি। তিনি আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার। রাষ্ট্রদূত পাসানদিদেহ বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরানের আগ্রহ প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের একটি সমাধানে পৌঁছাতে তেহরান আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে স্প্যানিশ ভাষার দোভাষীর মাধ্যমে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ, এমনকি যে দেশকে তার শত্রু হিসেবে দেখা হয়, সেই দেশের মাটিতেও, প্রমাণ করে যে ইরান শান্তি চায়।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। উভয় পক্ষ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে বলে ধারণা করা হলেও, একই সঙ্গে তারা সামরিক হামলাও অব্যাহত রেখেছে।
