সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর গ্যালারির লাল-সবুজ জোয়ার আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের উন্মাদনা ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশ দলের ডাগআউটকে। প্রথমবার ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নতুন কোচ টমাস ডুলি। এই দুর্দান্ত জয়কে সমর্থকদের উৎসর্গ করার পাশাপাশি ইউরোপের মাটিতে নিয়মিত খেলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, ‘এই ভালোবাসাই আমাদের বারবার ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। আমরা এখনই অন্য কোনো দলের খোঁজ করছি, যাতে আবারও ইউরোপে এসে ম্যাচ খেলতে পারি। কারণ এখানকার অভিজ্ঞতা ছিল এককথায় দারুণ। আমরা জিতবো, অবশ্যই জিতবো! আমরা সমর্থকদের জন্যই লড়াই করি এবং মাঠে নিজেদের সাধ্যমতো সবকিছু করি।’
ম্যাচে বাংলাদেশ সাধ্যের সবটুকু ঢেলে দিলেও প্রতিপক্ষ সান মারিনো যে কঠিন ফাইট দিয়েছে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন কোচ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তলানিতে (২১১) থাকলেও নিয়মিত জার্মানির মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে খেলা সান মারিনো ম্যাচের ১৯ মিনিটে পিছিয়ে পড়েও ৩১ মিনিটে সমতায় ফেরে। তবে ডিফেন্ডার থেকে ‘ফরোয়ার্ড’ বনে যাওয়া তপু বর্মণের জোড়া গোলে শেষ রক্ষা হয়নি স্বাগতিকদের।
গ্যালারির দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে থাকা প্রবাসী সমর্থকদের ম্যাচ জয়ের পেছনের ‘টনিক’ উল্লেখ করে ডুলি বলেন, ‘সমর্থকেরা প্যারিস, ইতালি থেকে এখানে খেলা দেখতে এসেছেন। ম্যাচের আগে আমি ছেলেদের বলেছিলাম-দেখো, ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪ হাজার মানুষ শুধু তোমাদের জন্য এসেছে। চলো ওদের মুখে হাসি ফোটাই। ওদের জন্য খেলি এবং একটি ভালো ফলাফল নিয়ে আসি, যাতে ওরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারে। ছেলেরা সেটাই করেছে।’ ডুলি বলেন, “বাংলাদেশে যাওয়ার পর আমি যে উন্মাদনা দেখেছি, তা অভাবনীয়। দেশ ছাড়ার সময় বাসের সামনে প্রায় ২০০ মানুষকে ক্যামেরা হাতে ভিডিও করতে দেখেছি। আসলে বাংলাদেশে আমাদের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছে এবং তারা সবাই ফুটবল বোঝে, তারা প্রত্যেকেই একেকজন কোচ! তাদের এই আবেগ ও উন্মাদনার জন্য শুধু একটু সাফল্য প্রয়োজন। বিশ্ব ফুটবলে আমরা হয়তো জার্মানি বা ইতালি নই, বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারেও আমরা নেই। তবে সাধ্যের সবকিছু দিয়ে আমরা এই মানুষগুলোকে খুশি করার চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, এটি একটি দারুণ সূচনা।’
