নিউজিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

নিউজিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

ফন্ট সাইজ:

তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে নিউজিল্যান্ডের ৪ সংসদ সদস্যের (এমপি) ওপর এক বছরের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির এমপিদের বিরুদ্ধে চীনের এমন পদক্ষেপ এই প্রথম। মে মাসে তাইওয়ান সফর করেন ওই চারজন। চীনা দূতাবাস তাদের জানায়, ক্ষমা প্রার্থনা করলে নিষেধাজ্ঞা কমানো বা প্রত্যাহার করা হতে পারে। চীন দীর্ঘদিন ধরে স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। তারা দ্বীপটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া এমপিরা হলেন শাসক জোটের সদস্য মওরিন পিউ, ডেভিড উইলসন ও লরা ম্যাকক্লুর এবং বিরোধী লেবার পার্টির ডানকান ওয়েব। সফরে তারা তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া লুংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, দশকের পর দশক ধরে নিউজিল্যান্ডের এমপিরা তাইওয়ান সফর করে আসছেন। এ ধরনের সফর নিউজিল্যান্ডের ‘ওয়ান চায়না’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

এদিকে, নিউজিল্যান্ডের অ্যাক্ট পার্টির এমপি লরা ম্যাকক্লুর একে বিদেশি হস্তক্ষেপের একটি রূপ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তাইওয়ান সফরের জন্য আমি কোনো ক্ষমা চাইব না। একই সঙ্গে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, অতীতেও একই ধরনের সফর হয়েছে, কিন্তু এবারই প্রথম এমন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হলো। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে নিউজিল্যান্ড ‘ওয়ান চায়না’ নীতি অনুসরণ করে আসছে।

এ নীতির আওতায় দেশটি বেইজিংকে চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তাইপের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে না। তবে অন্যান্য অনেক দেশের মতো নিউজিল্যান্ডও তাইওয়ানের সঙ্গে নিয়মিত অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা তাইওয়ানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ এবং ভবিষ্যতে চীন-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন