উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা অচিন্তনীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে: কিম

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা অচিন্তনীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে: কিম

ফন্ট সাইজ:

অস্ত্র গ্রেড পারমাণবিক উপাদান তৈরি করা হয় এমন একটি নতুন প্ল্যান্ট বুধবার পরিদর্শন করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, তিনি ঘোষণা করেছেন যে- পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক শক্তি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি করবে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, কিম বলেন- গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়া তাদের অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনের সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। নতুন প্ল্যান্টটি তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে এবং তেহরানকে পারমাণবিক উপাদান ত্যাগে রাজি করাতে চাইছে। এমন সময়ে কিমের এই ঘোষণা সামনে এলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার কাছে ইতিমধ্যে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির মতো উপাদান আছে। প্রায় ৫০টি ওয়ারহেড তারা ইতিমধ্যে সংযোজন করেছে। এমন তথ্য মার্চ মাসে কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) মার্চে জানায়, উত্তর কোরিয়ায় অন্তত দুটি সক্রিয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে। এর একটি ইয়ংবিয়নে এবং অন্যটি কাংসনে।

সংস্থাটি আরও জানায়, ইয়ংবিয়নে একটি নতুন ভবন নির্মাণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর কাঠামো ও অবকাঠামো কাংসন সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের মতোই। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে। আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ভবনটির বাইরের অংশ নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং ভেতরের কাজ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে এপ্রিল মাসে দেয়া সাক্ষ্যে ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেমস অ্যাডামস বলেন, পিয়ংইয়ং সম্ভবত ইয়ংবিয়নে আরও একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে।

তবে কিম বুধবার যে স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন, সেটি ওই নতুন কেন্দ্র কি না বা অন্য কোনো অজানা স্থাপনা কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কেসিএনএর প্রতিবেদনে এর অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি অন্তত তৃতীয়বার, যখন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিমকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেখিয়েছে। কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন প্ল্যান্টে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কিম সেন্ট্রিফিউজের সারির মধ্য দিয়ে হাঁটছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের সিনিয়র গবেষক হং মিন বলেন, নতুন এই স্থাপনা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির পরিণত ও বিস্তৃত রূপ তুলে ধরছে। তার মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে এখন ফোকাস গবেষণা ও উৎপাদন থেকে সরে গিয়ে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও অস্ত্রায়ন-এর দিকে গেছে। ছবিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, পাইপলাইন ও মডিউল জোন দেখানোয় উত্তর কোরিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে চালু একটি সম্পূর্ণ কারখানা হিসেবে উপস্থাপন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক পরীক্ষার বদলে উৎপাদন স্থাপনা দেখানো উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাস্তব উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছেছে, এমন বার্তা দেয়ার কৌশল। এর পাশাপাশি দেশটি কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে এবং এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্নয়ন করেছে যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম বলে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে।

কিম বুধবার বলেন, পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা পাঁচ বছরের পরিকল্পনার লক্ষ্য পূরণে কাজ করেছেন এবং দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা এখন অচিন্তনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোর বিস্তৃত প্রবণতার অংশ বলেও একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের নয়টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কাছে থাকা ওয়ারহেডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯,৭৪৫। এর মোট বিস্ফোরণ ক্ষমতা প্রায় ১,৩৫,০০০ হিরোশিমা বোমার সমান। এতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সাল ছিল টানা নবম বছর, যখন মোতায়েনযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার কাছে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ৫,৪০০টিরও বেশি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে প্রায় ৫,৩০০টি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন