গাজায় দিয়েছেন চিকিৎসা, এবার মার্কিন কংগ্রেসের পথে অ্যাডাম হামাওয়ে

গাজায় দিয়েছেন চিকিৎসা, এবার মার্কিন কংগ্রেসের পথে অ্যাডাম হামাওয়ে

ফন্ট সাইজ:

মিশরে জন্ম নেয়া প্লাস্টিক সার্জন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং গাজার যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসক অ্যাডাম হামাওয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক ভোটাভুটিতে জয় পেয়েছেন। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন। নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন তিনি। হামাওয়ে আগামী ৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলে’র মুখোমুখি হবেন। ডেমোক্রেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে জয়ী হলে গাজা যুদ্ধ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকা কংগ্রেসের একমাত্র সদস্য হবেন তিনি।

২০২৪ সালে গাজায় চিকিৎসা মিশনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে হামাওয়ে বলেন, গাজা থেকে ফিরে তিনি ওয়াশিংটনে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে দেখা করে সেখানের বাস্তব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছিলেন। তার ভাষায়, তিনি আইনপ্রণেতাদের বলতে চেয়েছিলেন, গাজায় যা ঘটছে তা বাস্তব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজব নয়। তিনি নিজ চোখে তা প্রত্যক্ষ করেছেন। হামাওয়ে জানান, কিছু আইনপ্রণেতা তার বক্তব্য শুনে যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা করলেও প্রকাশ্যে কোনো পদক্ষেপ নেননি। আবার অনেকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকৃতি জানায়।

এসব অভিজ্ঞতাই তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছে বলে জানান তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এমন আরও প্রতিনিধি প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান নেবেন। কংগ্রেসে নির্বাচিত হলে গাজা যুদ্ধ এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আশা প্রকাশ করেন হামাওয়ে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য নিজেকেই ওয়াশিংটনে যেতে হবে বলে মনে হয়েছে তার। গাজা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইসরাইলকে প্রতি বছর দেওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা অনুমোদনের দায়িত্ব কংগ্রেসের ওপরই বর্তায়। একই সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও রয়েছে তাদের। হামাওয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তিনি বসনিয়া, সুদান, হাইতি, লেবানন ও সিরিয়ায় চিকিৎসা মিশনে অংশ নিয়েছেন।

তবে তার মতে, গাজার অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি স্মরণ করেন, প্রতিদিন এমন শিশুদের চিকিৎসা করতে হয়েছে, যারা ইসরাইলি হামলায় হাত-পা হারিয়েছে কিংবা পুরো পরিবারকে হারিয়েছে। আহতদের অস্ত্রোপচার করা এবং পরদিন আবার তাদের দেখার সেই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। হামাওয়ে জানান, গাজায় অবস্থানের সময় অবিরাম বোমাবর্ষণ ও ড্রোনের উপস্থিতির কারণে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোও সম্ভব ছিল না বলে। তিনি বলেন, চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাতে হয়েছে তার। রাজনীতিতে হামাওয়ের উত্থানের পেছনে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্রেট নেতার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর মধ্যে রয়েছেন সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ। ২০০৪ সালে ইরাকে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর হামাওয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ডাকওয়ার্থ। এছাড়া প্রগতিশীল রাজনীতিক বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থনও পান তিনি। ফিলিস্তিনপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন তার নির্বাচনি প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছে। তবে নির্বাচনের শেষ দিকে তাকে অতীতের কিছু সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

বিশেষ করে ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামলায় অনুপ্রেরণা দেওয়ার অভিযোগে দণ্ডিত নিউ জার্সির মুসলিম নেতা ওমর আবদেল-রহমানের সঙ্গে তার পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। হামাওয়ে এ বিষয়ে বলেন, তিনি মিশরীয়-আমেরিকান কমিউনিটির মাধ্যমে আবদেল-রহমানকে চিনতেন। তবে তিনি সব ধরনের সহিংসতার বিরোধী এবং কখনো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বিজয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে হামাওয়ে বলেন, তার এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। তিনি দাবি করেন, বর্ণবাদী বা মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণা দিয়ে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার সময় এখন শেষ হয়ে এসেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন