দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম সন্ত্রাসীদের এনআইডি ‘ব্লকের’ পরিকল্পনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার। এই নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরসহ সবকটি ইউনিটের শীর্ষ কর্তারা বৈঠক করে চলেছেন। সর্বশেষ ঈদের ছুটির আগের দিন মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। সেখানে বলা হয়, পুরনোদের পাশাপাশি নতুন সন্ত্রাসীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাই রাঘববোয়ালদের নতুন তালিকা করা হবে। সন্ত্রাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ‘ব্লক’ করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এমনকি, অপরাধ কর্মকান্ডে সহায়তাকারী স্বজনদের এনআইডিও ব্লক করার কথা বলা হয়। এ জন্য তাদের তথ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্দেশনা পেয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে জেলার পুলিশ সুপার ও থানার ওসিরা সোর্সের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের এনআইডিসহ পুরো প্রোফাইল সংগ্রহ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অপরাধীদের অপরাধমূলক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে পুলিশ। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি অপরাধী ও ‘রাঘববোয়ালদের’ এনআইডি ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় শুধু মূল অপরাধীই নয়, বরং অপরাধের অর্থ ও অবৈধ সম্পদের সুবিধাভোগী হিসেবে তাদের নিকটাত্মীয় বা স্বজনদেরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারাগার বা বিদেশে পলাতক থাকা অবস্থায়ও তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে দেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব অপরাধের আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে তারা কোনো না কোনোভাবে বৈধ এনআইডি ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল রাখছে বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার মতে, একজন অপরাধীকে সামাজিকভাবে ও আর্থিকভাবে পুরোপুরি অচল করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে এনআইডি ব্লক করে দেওয়া। এতে সন্ত্রাসীরা কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে বা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। পাসপোর্ট ইস্যু বা নবায়ন করতে পারবে না, ফলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা বিদেশে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়বে। নিজের বা বেনামে কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচার পর রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না। কোনো মোবাইল সিম কার্ড তুলতে বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট চালাতে পারবে না।
বেশি অপকর্মে নতুন অপরাধীরা : পুলিশ সূত্র জানায়, এলাকাভিত্তিক নতুন সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরির পরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে পুলিশ। এরই মধ্যে বিভিন্ন থানা এলাকায় সক্রিয় চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাঁদাবাজ, উদীয়মান সন্ত্রাসীদের তালিকার পাশাপাশি পুরনো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ওপরও কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব সন্ত্রাসী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের বেশিরভাগই আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের শূন্যস্থান দখলে নেয় নতুন সন্ত্রাসীরা। তারা খুনাখুনি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক-বাণিজ্যে হাত পাকাতে শুরু করছে। পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অধিকাংশই এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অপরাধ কর্মকাণ্ডে নতুন সন্ত্রাসীদের নিজ নিজ দলে ভেড়াচ্ছে। এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের পর বেশিরভাগ শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বের হয়ে যায়। তারাও ফের অপরাধে সক্রিয় হচ্ছে।
এনআইডি ব্লক করাসহ নানা বিষয়ে বৈঠক : পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে অপরাধ পর্যালোচনা নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বলা হয় নতুন নতুন অপরাধী তৈরি হচ্ছে। তার মধ্যে ভাসমান অপরাধীও বেশ সক্রিয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা হত্যাকা- থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ভাসমান অপরাধীরা এক এলাকায় অপরাধ ঘটিয়ে অন্য এলাকায় আস্তানা গাড়ছে। এই কারণে তাদের ধরতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। বৈঠকে কিশোর গ্যাংয়ের তথ্যভাণ্ডার তৈরি, ভাসমান অপরাধীদের নজরদারি, বিট পুলিশিং, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের এনআইডি ব্লক, তাদের আশ্রয়দাতাদের (রাঘববোয়াল) বিষয়টি আলোচনায় ওঠে আসে। রাজধানীর উত্তরা বিমানবন্দর, বিশ্বরোড, কদমতলী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সদরঘাট, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, কমলাপুর রেলস্টেশন, হাইকোর্ট এলাকাসহ শতাধিক স্থানকে ভাসমান অপরাধের জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভাসমান অপরাধী নিয়ে দুশ্চিন্তা : বৈঠকে পুলিশের একটি গোপন প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বলা হয়, ঢাকার মহাখালীর কড়াইল বস্তি, জুরাইন বালুর মাঠ বস্তি, গোপীবাগের টিটিপাড়া বস্তি, মালিবাগের কুমিল্লা বস্তি, মোহাম্মদপুরের বালুর মাঠ বস্তি, মালিবাগের রেললাইন বস্তি, খিলগাঁওয়ের নোয়াখাইল্লা বস্তি, মীর হাজিরবাগ বস্তি, ধলপুর সিটিপল্লী বস্তি, নামাশ্যামপুর বস্তি, গেন্ডারিয়ার রেললাইন বস্তি, পার গেন্ডারিয়া বস্তি, মহাখালীর সাততলা বস্তি, পোস্তগোলা ডিআইটি বস্তি, ডেমরার চরপাড়া বস্তি, পূর্ব দোলাইরপাড় ডিপটি গলির বস্তিসহ বেশির ভাগ বস্তিতেই ভাসমান অপরাধীদের আস্তানা। ঢাকার বাইরে কুমিল্লা, ফেনী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শেরপুর, হবিগঞ্জ, কক্সবাজার, বরগুনা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, বগুড়া, ফরিদপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকার সাভার, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরের টঙ্গী, কুষ্টিয়া এলাকায় ভাসমান অপরাধী বেশি। এসব অঞ্চলের বস্তিতেই বেশি বসবাস তাদের। অস্ত্র, মাদক কেনাবেচা, নারী ও শিশু পাচার, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত তারা। প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক নেতারা বস্তির অপরাধীদের ব্যবহার করেন। যে কারণে প্রশাসনও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, অপরাধীদের নির্মূলে জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। যারা অপকর্ম করবে, তাদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। এমনকি অপরাধীদের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
তালিকা হচ্ছে ‘রাঘববোয়াল’দের : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা এবং বিশেষায়িত গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি রাঘববোয়ালদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক তালিকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী, অর্থ পাচারকারী, মানবপাচার চক্রের মূল হোতা এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা বড় বড় অপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যারা ইন্টারপোলের রেড নোটিসধারী এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে বাংলাদেশের অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের তালিকা হচ্ছে। এ ছাড়া যারা ব্যাংক লোপাট, হুন্ডি ব্যবসা ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে, তাদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। দেশের সীমান্ত এলাকা ও ট্রানজিট রুটগুলো ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে তারাও তালিকায় আসছে।
পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিটের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এতদিন শুধু গ্রেপ্তার বা মামলা দিয়ে অপরাধ দমনের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এবার আমরা তাদের ‘লাইফলাইন’ কেটে দিতে যাচ্ছি। এনআইডি ব্লক হলে তারা দেশ বা বিদেশ কোথাও বসেই আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না।
সহায়তা করলেই ফাঁসবেন স্বজনরা: পরিকল্পনার সবচেয়ে কঠোর কার্যকরী দিকটি হচ্ছে অপরাধীদের স্বজনদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের কোনো স্বজন যদি অপরাধে সহায়তা করে, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ শীর্ষ সন্ত্রাসী বা রাঘববোয়ালরা নিজেদের নামে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখে না। তারা সমস্ত অর্থ-সম্পদ স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন কিংবা বাবা-মায়ের এনআইডি ব্যবহার করে বৈধ করার চেষ্টা করে। কোনো অপরাধীর অর্থ দিয়ে তার কোনো আত্মীয়ের নামে সম্পত্তি ক্রয় বা ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই আত্মীয়ের এনআইডি লক করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এক কর্তাব্যক্তি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের এনআইডি ব্লকের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের সহায়তা নেওয়া হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিটিআরসির ডাটাবেজ সংযুক্ত করা হবে। আইনগতভাবে অপরাধের দায় ব্যক্তিগত। তবে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকে যে, স্বজনরা অপরাধের টাকা ভোগ করছেন বা অপরাধে সহায়তা করছেন, তবেই শুধু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢালাওভাবে কারও এনআইডি ব্লক করা হবে না।
তিন স্তরের ভেরিফেকশন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, তালিকায় যাতে কোনো ভুল এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য তিন স্তরের ভেরিফিকেশ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রথমে স্থানীয় পুলিশ, এরপর জেলা প্রশাসন ও সবশেষে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যাচাইয়ের পরই কেবল চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। সন্ত্রাসীদের এনআইডি ব্লক করা এবং তাদের স্বজনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার পরিকল্পনাটি নিঃসন্দেহে অপরাধ দমনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। রাঘববোয়ালদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে এর চেয়ে কার্যকর ডিজিটাল অস্ত্র আর নেই।
কলকাঠির পেছনে পুরনো পুরস্কারঘোষিতরা: পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদ মর্যাদার দুই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা ফের মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তারা সক্রিয় হওয়ার তথ্য আছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, পুরস্কারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে ১৩ জন বিদেশে আত্মগোপনে আছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা আছে। ২০০৩ সালে মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে ডিবি পুলিশের দুই সদস্যকে হত্যার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে আত্মগোপনে থেকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করছে। তার সহযোগী জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক ভারতে পালিয়ে আছে। তার ইশারাতেই দেশে দখলবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে।
প্রথম আলো
‘হামের ধরন পুরোনো, মৃত্যু ৬০০ ছাড়াল’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, হামের পুরোনো ধরনেই (ভেরিয়েন্ট) দেশের শিশুসহ বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় পরীক্ষাগারে জীবাণুর জিন বিশ্লেষণ করে হামের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, হাম বাইরে থেকে আসেনি।
সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পোলিও, হাম, রুবেলা ল্যাবরেটরি এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে হামের জীবাণুর জিন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দুটি পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণের ফল একই। তাতে জানা গেছে, হামের বি৩ ধরনে দেশের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ধরনটি অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশে সক্রিয়।
এরই মধ্যে দেশে হামে মৃত্যু ৬০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার (মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত) হিসাবে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জন মারা গেছে। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে ৫১১ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৯০ জনের মৃত্যু হলো।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করে, হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা কার্যত হামেই মৃত্যু। রোগ শনাক্তের সীমাবদ্ধতার কারণে নিশ্চিত হামে মৃত্যু বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর নজির নেই। মারা যাওয়া ৫০১ জনের মধ্যে ৮০ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। এই মৃত্যু শুরু হয়েছে এ বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে। এখনো মৃত্যু অব্যাহত আছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের একটি অংশ কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযোগ করে আসছে যে হাম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে হামে মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জাহিদ রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশে টিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কমে এসেছে। সংক্রমণ কমার কারণে মৃত্যুও কমে আসবে। একটা কথা মনে রাখা দরকার, দেশে এই সময় শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, তাতে মৃত্যুও হয়। তাই সব মৃত্যু যে হামে হচ্ছে, তা নয়।’
হামের ধরন জানা গেছে
সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পোলিও মিজেলস রুবেলা ল্যাবরেটরি ২০১৪ সাল থেকে হাম শনাক্ত ও হামের ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ খন্দকার মাহবুবা জামিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ৩৫টি নমুনার হামের জীবাণুর জিন বিশ্লেষণ করে বি৩ ধরন জানতে পেরেছি।’
খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, এই ল্যাবরেটরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত। হামের জিন বিশ্লেষণের তথ্য নিয়মিতভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পাঠানো হয়। পাশাপাশি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে মে মাসে ৩৮টি নমুনার হামের জীবাণুর জিন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে হামের ধরন বি৩ শনাক্ত হয়েছে।
বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত হামের মোট ২৪টি ধরন সম্পর্কে জানা গেছে। বাংলাদেশে অনেক বছর ধরেই বি৩ ধরনটিই প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তবে অন্য একটি ধরনও ছিল।
ভাইরাস বিশেষজ্ঞ খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ২০১৪ সালে প্রথম হামের বি৩ ধরন শনাক্ত হয়। এরপর ২০১৭-২০১৮ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হামের প্রাদুর্ভাবের সময় হামের ডি৮ ধরন শনাক্ত হয়েছিল। তার পর থেকে সব সময় হামের বি৩ ধরনই পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘এই ধরনটাই ছড়াচ্ছিল। সুতরাং রোহিঙ্গা শিবির থেকে হাম ছড়িয়েছে—এমন বক্তব্য সঠিক নয়।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘মমতার বক্তব্যে তোলপাড়’। খবরে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বিস্ফোরক বক্তব্যে সর্বত্র তোলপাড়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আসামিদের প্রোটেকশন দিতে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ হস্তক্ষেপ ছিল-তার এমন মন্তব্য মুহূর্তেই হইচই পড়ে যায়। এমনকি ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি...’ এমন বক্তব্য আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার অবস্থা হয়। মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর আলোচিত এ বক্তব্য এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এমনকি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লিসহ অনেক স্থানে এ আলোচনা নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে ঢাকার প্রশাসন। তদন্তসংশ্লিষ্টরা অনেকটা হতচকিত। যদিও বিএনপি সরকার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে কথা বলছে কূটনৈতিক ভাষায়। তবে জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সবার মধ্যে জানার প্রবল আগ্রহ-তাহলে হাদি হত্যার প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা। ভিন্ন কোনো দেশের সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি স্পর্শকাতর বিষয় হলেও তদন্ত সংস্থাকে জনগণের সামনে স্পষ্ট করার দাবি রাখে। এমনটিই মনে করেন অনেকে।
কলকাতার ধর্মতলায় মঙ্গলবার এক জনসভায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘দেশের স্বার্থে’ এ বিষয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি।’ মমতা আরও বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভল্যুশন’ হয়েছিল।...মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।...আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।...তারপর হোম মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন। এতদিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি। আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন। আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।” বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, হাদি হত্যার আসামি যারা ভারতে গ্রেফতার আছে, তাদের দ্রুত ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে। আর সেটা করা হবে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে। মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন পরাজিত নেতা একটা কথা বলেছেন, দ্যাট ইজ নট আওয়ার ম্যাটার টু ডিসকাস। এখন যদি ভারত সরকার বাংলাদেশকে হাদি হত্যার বিষয়ে কিছু বলে, অবশ্যই আমরা দেখব। অলরেডি এটা নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
চাঞ্চল্যকর শরিফ ওসমান হাদি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান। তিনি বলেন, মামলাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিদেশে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা ভারত সরকারের কাছে মিউচুল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের আওতায় চিঠি দিয়েছি। এখনো তাদের সাড়া পাইনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। কারণ, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা এখনো তদন্তে সে পর্যন্ত যেতে পারিনি। তিনি জানান, দেশের বাইরে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে আইনগত কিছু জটিলতা থাকে। সম্ভব হলে সেই জটিলতাগুলো দূর করে আমরা সেই পথে এগোব।
এদিকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বুধবার ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লহ আল জাবের বলেন, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, শহীদ ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে ভারত এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
কালের কণ্ঠ
‘আবারও মার্কিন শুল্ক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে জোরপূর্বক শ্রম রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে। মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতারা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ মূলত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের একটি অজুহাত। তাঁরা বলছেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমমান, কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তার সঙ্গে এই অভিযোগের কোনো মিল নেই।
ব্যবসায়ী নেতাদের আশঙ্কা, অভিযোগটি যদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা পায়, তাহলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপসহ অন্যান্য রপ্তানি বাজারেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। যদিও এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে শুনানি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
শুল্ক বাড়লে কী হবে
বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়বে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ওপর গড়ে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যমান অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ব্যবস্থার কারণে চাপ বহাল আছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন। এর সঙ্গে যদি নতুন করে আরো ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক যোগ হয়, এতে বাংলাদেশি পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেড়ে যাবে। ফলে ক্রেতারা বিকল্প উৎসর দিকে ঝুঁকতে পারে।
প্রতিযোগী দেশগুলোর সুবিধা: ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হারানো। যদি ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান বা অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের ওপর একই ধরনের শুল্ক আরোপ না হয়, তাহলে তারা বাংলাদেশের তুলনায় বড় সুবিধা পাবে।
সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ক্রয়াদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। তবে যদি একই হারে সব প্রতিযোগী দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ল, প্রভাব পড়বে সব ক্ষেত্রে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের পর এবার বিদ্যুতের দামও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ল। আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্পসহ সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম গতকাল বুধবার বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদন, বিপণন থেকে শুরু করে জনজীবনের সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সরকার ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব পেলেও কমিশন সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে বাড়তি চাপের বিপরীতে সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এতে বিদ্যুতের ৫৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি নেমে দাঁড়াবে ৪১ হাজার কোটিতে।
ঘোষণা অনুসারে, দিনে শুধু প্রয়োজনীয় সময়ে একটি লাইট-ফ্যান ব্যবহারকারী গ্রাহককেও আগামী মাসে ৪০ টাকার মতো বেশি বিল দিতে হবে। বাসাবাড়ির অন্য গ্রাহকের খরচ ব্যবহার অনুযায়ী মাসে ৭০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকের খরচ আরও বেশি বাড়বে।
গ্রাহক পর্যায়ে গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে এক টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এযাবতকালের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে সাত টাকা থেকে এক টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে আট টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। শতকরা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ শতাংশ; স্কুল, মসজিদ, মন্দির ও হাসপাতালে প্রায় ২০ শতাংশ এবং শিল্পে ১৮-১৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সরাসরি বিদ্যুৎ বিল যা বাড়বে, তার চেয়েও বড় প্রভাব পড়বে পরোক্ষ ব্যয়ে। উৎপাদন ও সেবা খাতে বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। বাড়বে মূল্যস্ফীতি।
যদিও বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছিলেন, আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠলে সরকার ওই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে। দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যেই লাইনের গ্যাস ছাড়া সব ধরনের জ্বালানির কয়েক দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়। এপ্রিলে এলপিজি, ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়। এবার বিদ্যুতের দামও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হলো।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম সমকালকে বলেন, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি, সিস্টেম লস এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলোর কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সেগুলো বন্ধের দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলো। এর প্রভাব সবখানেই পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, বাজেটের আগে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক
‘বিদ্যুতের দামে লাফ, বাড়ছে সংসার কৃষি ও শিল্পের ব্যয়’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে ২৭ মাস পর বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ল। গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট) বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকশ্রেণিভেদে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ সেবাপণ্যের দাম। চলতি জুনের এক তারিখ থেকেই নতুন দরে বিদ্যুত্ কিনতে হবে জনগণকে।
এখন পর্যন্ত দেশে একবারে ও একধাপে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরিমাণে এটি সর্বোচ্চ। তবে বৃদ্ধির হার বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল ও খাওয়ার তেলসহ নিত্য ব্যবহূত পণ্যের দাম বৃদ্ধির মধ্যে বিদ্যুতের এ মূল্যবৃদ্ধি সংসার খরচ মেটাতে সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের জনগণের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে। বিভিন্ন কৃষি ও শিল্পপণ্য উত্পাদনে খরচ বাড়াবে। সরকারি কর্মচারীদের বেতনবৃদ্ধির আগমুহূর্তে এ মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ধাক্কাও বড় করবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন খুচরা মূল্যহার ঘোষণা করে। বিদ্যুতের পাইকারি দাম ও সঞ্চালন মাশুলও বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। বিদ্যুতের চাপ ও ব্যবহূত পরিমাণ যত বেশি, গ্রাহকশ্রেণি অনুযায়ী বিদ্যুতের দামও তত বেশি। এই সূত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ৫ টাকা ৩২ পয়সা—লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্যই রয়েছে। সর্বোচ্চ দরে ২৩ টাকা ৮১ পয়সায় বিদ্যুত্ কিনতে হবে এলটি-টি অস্থায়ী গ্রাহকদের।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন দর ঘোষণা দেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর রহমান, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার।
নিম্নআয়ের সংসারে বেশি চাপ
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে বিদ্যুত্ বিতরণকারী ছয়টি সংস্থার মোট গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৪৮১। এর মধ্যে গৃহস্থালি গ্রাহক ৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ১২১। বর্তমানে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮০টি সমিতি, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুত্ বিতরণ করছে। সব সংস্থা ও কোম্পানি মিলিয়ে লাইফলাইন গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে সিংহভাগ ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ গ্রাহকই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের। আবাসিক গ্রাহকদের প্রায় ৪২ শতাংশই লাইফলাইন শ্রেণির। যেসব গ্রাহকের বিদ্যুতের ব্যবহার মাসে ৫০ কিলোওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাদেরকে লাইফলাইন গ্রাহক বলা হয়। এগুলো সীমিত আয় ও সীমিত বিদ্যুত্ ব্যবহারকারী পরিবার। এদের বড় অংশ কৃষি, দিনমজুরি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। একটি বড় অংশের নিয়মিত আয়ও থাকে না। ফলে তাদের বিদ্যুত্ ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি পারিবারিক ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আবারো বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবার গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারিতে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। চলতি জুন মাস থেকেই নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক কর্মকর্তার দাবি, বিদ্যুতের এ দাম বৃদ্ধিতে তাদের বাড়তি আয় হবে ১৩ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে তারা ভর্তুকি সমন্বয় করতে পারবে। তবে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ গ্রাহক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান- সব শ্রেণীর ব্যবহারকারীর বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
গ্রাহকের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার বিষয়ে পাওয়ার সেলের সাবেক ডিজি বিডি রহমত উল্লাহ গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা টেন্ডারে দায়মুক্তি আইনের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। বিদ্যুতের উৎপাদনসক্ষমতা বাড়ানো হয়। কিন্তু প্রাথমিক জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়নি। এতে উচ্চ মূল্যের জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্ধেকই বসিয়ে রাখা হলেও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা মানুষের পকেট থেকে নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিডিবির বিনা টেন্ডারের উচ্চ মূল্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে ভর্তুকি বেড়ে যাচ্ছে। আর এ ভর্তুকি কমাতে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে, যা একটি পচা দেহে পরিণত হয়েছে। এ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আমাদের দেশীয় সম্পদ গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনের দিকে নজর দিতে হবে, পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সোলার প্যানেলের দিকে আমাদের এগোতে হবে। একই সাথে বিনা টেন্ডারের উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স বাতিল করে দিতে হবে। এছাড়া সামনে আমাদের আর কোনো পথ নেই।
বিইআরসির ঘোষণায় বলা হয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সাত টাকা থেকে এক টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে আট টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একই সাথে সঞ্চালন চার্জও ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বণিক বার্তা
‘যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ৩০১’ তদন্তে ১০% অতিরিক্ত শুল্কের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) শীর্ষক চুক্তিতে পণ্য উৎপাদনে ‘ফোর্সড লেবার’ বা জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার নিষিদ্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।
সেটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)। সংস্থাটির সেকশন ৩০১ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে পণ্য উৎপাদন নিষিদ্ধ ও তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাদের ভাষায়, এ ধরনের ব্যর্থতা ‘অযৌক্তিক’ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সীমিত করে। তাই এ অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে মোট শুল্ক ২৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে।
‘রিপোর্ট ইন সেকশন ৩০১ ইনভেস্টিগেশন: অ্যাক্টস, পলিসিজ, প্র্যাকটিসেস অব ভ্যারিয়াস ইকোনমিস রিলেটেড টু দ্য ফেইলিউর টু ইমপোজ অ্যান্ড ইফেকটিভলি এনফোর্স আ প্রহিবিশন অন দি ইম্পোর্টেশন অব গুডম প্রোডিউসড উইথ ফোর্সড লেবার’ শীর্ষক প্রতিবেদন ২ জুন প্রকাশ করে ইউএসটিআর। একই দিনে এ-সংশ্লিষ্ট বিবৃতিও দেয় সংস্থাটি।
তদন্ত প্রতিবেদন-সংক্রান্ত ইউএসটিআরের বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। আমরা আর এ বৈষম্য মেনে নেব না।’
তিনি বলেন, ‘কিছু বাণিজ্য অংশীদার ইউএসএমসিএ এবং এআরটির মতো চুক্তির মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য যেন কোনোভাবেই জোরপূর্বক শ্রমকে উৎসাহিত বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না দেয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সব অংশীদারকেই আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ৬০টি দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয় ইউএসটিআর। এ বিষয়ে সংস্থাটি বলছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যে পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে যেসব দেশ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেনি, তাদের জন্য বাড়তি শুল্কের হার প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ইউএসটিআরের এ প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত নয়। সংস্থাটি এ বিষয়ে জনমত, শুনানি ও লিখিত মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সে প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সই হয়। এর শ্রমবিষয়ক অধ্যায়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশ্রুতি দেয় যে জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রম, চুক্তিবদ্ধ শ্রম এবং শিশুশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত বা খনি থেকে উত্তোলিত কোনো পণ্য রফতানি করতে দেয়া হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধিমালা এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার সংরক্ষণ, শ্রম আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এখন শ্রম সম্পর্কিত অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রভাবের বিষয়ে ভাবতে শুরু করেছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকা ‘আবার মার্কিন শুল্কের ভয়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরপূর্বক শ্রম কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর আবার অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং বাকি ৪৫টি দেশের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর কথা বলা হয়েছে।
এখনো এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, তবে প্রস্তাবটি সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এই উদ্যোগ বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলতে পারে।
সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। বাংলাদেশ কোনো ভিত্তিতে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাওয়া হবে। প্রয়োজনে ভার্চুয়াল বা সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) তাদের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। ওই ধারা অনুযায়ী মার্কিন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর, অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক বিদেশি নীতি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের সময়সীমা আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগ দিয়ে ইউএসটিআর নতুন শুল্ক প্রস্তাব করল।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই দিনের পর থেকে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল করেছে।
ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব অর্থনীতি ইতিমধ্যে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অথবা বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে যেসব অর্থনীতি এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রণয়ন বা বাস্তবায়ন করেনি, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘বেড়েই চলেছে ব্যয়’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের কারণে সরকার এরই মধ্যে দুবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সার্বিকভাবে এই দামবৃদ্ধির ফলে জনজীবনের ওপর পড়তে যাচ্ছে বড় চাপ।
বিদ্যুতের নতুন দাম বৃদ্ধি বিষয়টি বিশ্লেষণ কওে দেখা যায় যে, আবাসিকের গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আর আবাসিকের লাইফলাইন গ্রাহকের বর্তমান ইউনিটপ্রতি বিল ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। এতে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল মাসে ৩৫ টাকার মতো বৃদ্ধি পাবে। আর আবাসিকে যারা ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তাদের বিল বাড়বে প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ টাকা। আনুপাতিকহারে বাড়বে ভ্যাটের পরিমাণও।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হলে নিঃসন্দেহে জনজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সময় গণশুনানিতে যখন আমরা অংশগ্রহণ করি তখন দাম না বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের অবস্থান শক্ত ছিল। ক্যাবের প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের যারা দাম না বাড়ানোর কথা বলেছিলাম সরকার কারও কথার মূল্যায়ন করেনি। এখন যে দাম বৃদ্ধি করা হলো তা ৫০ ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ ইউনিটের ওপর মূল্য বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি স্তরেই এর প্রভাব পড়বে। বিদ্যুতের সঙ্গে পরিবহন ভাড়াও জড়িত। ঢাকায় প্রচুর ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলছে। এর প্রভাবে ভাড়াও বৃদ্ধি পাবে। আর ভাড়া বৃদ্ধি পেলে তা দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে জনজীবনের প্রতি জায়গায় প্রভাব ফেলবে। সরকার ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ চুরির বিষয়ে কোনো কাজ করছে না। এ জায়গা থেকে ভর্তুকির কিছুটা দেওয়া যেতে পারে। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রেজওয়ান সেলিম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে। সমস্যা হচ্ছে যে অর্ডারগুলো এখন আমরা তৈরি করছি তা আরও তিন মাস আগের। সে সময় জ্বালানি খরচ এক রকম ছিল এখন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে খরচ আরও বাড়বে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এবার বাড়ল বিদ্যুতের দাম : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এবার অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল দাম বৃদ্ধির এই ঘোষণা দেয়। তেলের পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট সাধারণ গ্রাহকদের ওপর নতুন করে আবারও বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তারা বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকার সাধারণ গ্রাহকদের বিষয়টি মোটেও চিন্তা করেনি। এমনকি সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী কারও মতামতেরই মূল্যায়ন করেনি। এতে পণ্য উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পাবে, জনজীবনের ওপর পড়বে বড় চাপ।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ আর গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ হারে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। আর পাইকারি মূল্য ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা। সঞ্চালন চার্জ দশমিক ৩১৩৫ টাকা/কি.ও.ঘ থেকে দশমিক ০৭৫১ টাকা/কি.ও.ঘ. বেড়ে হয়েছে দশমিক ৩৮৮৬ টাকা/কি.ও.ঘ.। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন লাইফলাইন গ্রাহকের ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি জুন মাস থেকেই এই দাম কার্যকর হচ্ছে। তবে গ্রাহকশ্রেণিভিত্তিক বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত থাকছে। রাজধানীর রমনায় বিইআরসির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গতকাল দুপুরে এই ঘোষণা দেন। এক প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের ওপর দামবৃদ্ধির কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে।’
