দ্বিতীয় দিনেও ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান

ফন্ট সাইজ:

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সব সদস্যকে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুলেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তবে এদিন তারা সড়ক বন্ধ না করে ফুটপাথে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

জলকামান ও সাঁজোয়া যান নিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন তারা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের সহযোগী এবং অর্থ পাচারে জড়িত। এস আলমের ‘দোসরদের’ বোর্ডে বহাল রাখলে ব্যাংকে পুনরায় ব্যাপক লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে। মূলত সাধারণ গ্রাহকদের আমানত ও স্বার্থ রক্ষার্থেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অবিলম্বে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করতে হবে।

বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো হলো- এস আলম গ্রুপের অন্যতম সুবিধাভোগী ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে অবিলম্বে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করতে হবে, ব্যাংকের পেশাদারিত্ব ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) মুহাম্মদ ওমর ফারুক খানকে দ্রুত স্বপদে ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য একজন যোগ্য ও নিরপেক্ষ নতুন গভর্নর নিয়োগ দিতে হবে, অথবা বর্তমান গভর্নরের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে, ব্যাংকের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পূর্বে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত বা বিতর্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ যেকোনো শাখার সামনে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

আন্দোলনকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম সাবেক বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের দোসর। তাকে এই পদে বহাল রাখলে ব্যাংকে পুনরায় ব্যাপক লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে। মূলত সাধারণ গ্রাহকদের আমানত ও স্বার্থ রক্ষার্থেই আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ব্যাংকে ফ্যাসিস্ট আমলে এস আলমকে বসিয়ে এখান থেকে এক লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংককে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানকে আমরা কিছুতেই ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেবো না।

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুরুন নবী মানিক বলেন, এস আলমকে ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দিয়ে টাকা লুটপাট করা হয়। যখন ইসলামী ব্যাংককে প্রায় ধ্বংস করা হয় তখন এমডি ওমর ফারুক খান ব্যাংকটির হাল ধরেন। দ্রুত সময়ে ইসলামী ব্যাংক আবারো ঘুরে দাঁড়ায়। তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়েছে। এস আলম আবার ব্যাংকটিতে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ব্যাংক রেজুলেশন আইনে বলা হয়েছে, যারা ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, ঋণখেলাপি, টাকা পাচার করেছে তারা কোনোভাবেই ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে আসতে পারবে না। কিন্তু নবনির্বাচিত সরকার সে আইন পরিবর্তন করেছে। তাই অবিলম্বে ব্যাংক রেজুলেশন আইন ১৮ এর ক ধারা বাতিল করতে হবে। এস আলমের যে শেয়ার এবং সম্পত্তি রয়েছে সেগুলো বিক্রি করে তাদের ঋণের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

এর আগে গত সোমবার (১লা জুন) নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের যোগদানের প্রথম দিনে তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিলে তাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল এবং জলকামান ব্যবহার করে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে পুনরায় জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন